রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

আ.লীগের কাছে ২০টি আসন চান অলি!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার ০৭:০৬ পিএম

আ.লীগের কাছে ২০টি আসন চান অলি!

ঢাকা : জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে আওয়ামী লীগের কাছে চারটি মহিলা আসনসহ মোট বিশটি আসন চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

এরইমধ্যে দলের সম্ভব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান। কাক্সিক্ষত সংখ্যক আসনের নিশ্চয়তা পেলেই বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তিনি।

এলডিপি এবং ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ এবং এলডিপির নেতারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি কথা বলতে চাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্ব এলডিপিসহ বিএনপি জোটের অন্তত চারটি দল ২০ দলীয় জোট থেকে চলতি অক্টোবর মাসেই বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কাছে চারটি মহিলা আসনসহ অলি আহমদ একাই ২০টি আসন চাইলে তার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়ে।

এ রকম পরিস্থিতিতে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের আশায় বসে না থেকে গত গত মঙ্গলবার জেবেল রহমান গাণি ও এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ এবং খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও মঞ্জুর হোসেন ঈসা নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশেও এক দল ছেড়ে আরেক দল, এক জোট ছেড়ে আরেক জোটে যাওয়ার নজীর আছে।

সুতরাং বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০ দলীয় জোট ছেড়ে সম্প্রতি যারা বেরিয়ে গেছে তাদের জন্য আমার শুভকামনা। তবে, আমার নেতৃত্বে তাদের জোট ছাড়ার কথা ছিল,- এ খবরটি সত্য নয়। যাবার আগে এবং পরে তারা আমার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিকদল হিসেবে এলডিপিসহ নিবন্ধিত দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন সরকারে অলি আহমদের মন্ত্রীত্ব, নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় এলডিপির প্রতিনিধিত্ব এবং ৫টি সংসদীয় আসন এলডিপিকে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল আওয়ামী লীগ।

এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এলডিপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যহত ছিল। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, মার্চের প্রথম সপ্তাহ এবং এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় সরকারের প্রতিনিধিরা অলি আহমদ বীর বিক্রমের মহাখালীর ডিওএইচএস’র বাসায় তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর জুলাই মাসের ১৯ তারিখ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সরাসরি ফোন দেন অলি আহমদ বীর বিক্রমকে। যদিও বিষয়টিকে স্রেফ সৌজন্য বিনিময় হিসেবে বর্ণনা করেন দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিক।

জানা গেছে, সরকারের এই আগ্রহের কারণেই এলডিপির চেয়ারম্যান তার দলে থাকা সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমন্বয়ে সম্ভব্য বিশ জন প্রার্থীর একটি নামের তালিকা আওয়ামী লীগ প্রতিনিধির মাধ্যমে দলটির হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছান।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে অলি আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের কোনো নেতা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। সুতরাং সম্ভব্য প্রার্থীদের তালিকা দেওয়ার প্রশ্নই আছে না। আমরা এখনো ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আছি। নির্বাচনের ব্যাপারে ২০ দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করব।’

দলীয় সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন দলের কাছে ড. অলি আহমদের ২০টি আসন চাওয়ার বিষয়টিকে খোদ এলডিপি নেতারা ‘অবাস্তব চাওয়া’ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, সরকারের অবস্থা এত খারাপ পর্যায়ে চলে যায়নি যে, এলডিপিকে ২০ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে নেবে। এই মুহূর্তে বিএনপি জোটের দ্বিতীয় বৃহৎ নিবন্ধিত দল হিসেবে সরকারের কাছে এলডিপি এবং বর্ষিয়াণ রাজনীতিবিদ হিসেবে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের গুরুত্ব থাকলেও ২০ আসন ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এদিকে, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোট বাঁধার ব্যাপারে এলডিপিতে মতপার্থক্য আছে বলে জানা গেছে। দলটির একটি অংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেই থাকতে আগ্রহী। ফলে কাক্সিক্ষত সংখ্যক আসন না পেলে পুরো দল নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটে যেতে পারবেন না অলি আহমদ। দলের বড় একটি অংশ বিএনপি জোটেই রেখে যেতে হবে।

সুতরাং বিষয়টি চূড়ান্তভাবে ফায়সালা হতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই