বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

বিদ্রোহী ঠেকাতে বিএনপির শেষ চেষ্টা

আ.লীগের টোপ আর স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বই বড় বাধা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার ০৮:২১ পিএম

আ.লীগের টোপ আর স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বই বড় বাধা

ঢাকা : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিদ্রোহী কাউন্সিলর ঠেকাতে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। কয়েক ওয়ার্ডে সমঝোতা করা গেছে। তবে ধাক্কা খাচ্ছে কয়েক নেতার লেনদেন ইস্যুতে। গত মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠকের পর একক প্রার্থীর বিষয়টি নিষ্কণ্টক করতে পারেনি।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাতেও বৈঠক করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

বৈঠক চলাকালে এক নেতা জানান, কয়েক আসনে দল সমর্থিত প্রার্থী সরে দাঁড়াতে পারে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীকেই সমর্থন জানানো হতে পারে।

তবে শেষ চেষ্টা চালানো হবে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত। তবে সমঝোতা না হওয়ার নেপথ্যে স্থানীয় নেতাদের অন্তর্ন্দ্বন্দ্ব্ব এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বাণিজ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করছেন। সুবিধার টোপ হাতের কাছে ঝোলানো হয়েছে বলেও চাউর আছে।

৩০ জানুয়ারি দুই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ভোট। ৩১ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ওই দিন দুই সিটিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৭২টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামীকাল প্রার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ করা হবে প্রতীক। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

বিএনপি সূত্রমতে, কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে কয়েকদিন ধরে বৈঠক করছেন দুই সিটির সমন্বয় কমিটির নেতারা। উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে দলের একক প্রার্থী রয়েছে। বাকিগুলোয় আছে একাধিক প্রার্থী।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার উত্তরের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। সেখানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বিদ্রোহীদের প্রতি অনুরোধ জানান। কয়েকজন অঙ্গীকার করেন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের উত্তরের ১০টি ওয়ার্ডের বিদ্রোহীদের নিয়ে বৈঠকে করা হয়েছে। সমন্বয় কমিটি ছাড়াও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সমঝোতার লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

এদিকে একই সূত্র জানিয়েছে, উত্তরে সমঝোতার ভিত্তিতে কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। ১৪নং ওয়ার্ডে প্রার্থী আক্তার হোসেন জিল্লুকে দল সমর্থন দেওয়া হয়েছিল তা বদল করে বিদ্রোহী প্রার্থী কাফরুল থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল্লাহ চৌধুরী হাসানকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন জিল্লু।

উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, দল থেকে আমরা কাউন্সিলর প্রার্থীর নামের তালিকা ঘোষণা করেছি। এর বাইরেও কয়েকটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের অনেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে অঙ্গীকার করেছেন। আশা করি শেষ দিন (আজ) সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।

জানা গেছে, উত্তরের মতো দক্ষিণেও অনেক ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তাদের তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বৈঠক করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি প্রায় সমাধান হয়ে গেছে। দক্ষিণে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

বুধবারের মধ্যে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছতে পারব। আশা করি, তারা সবাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্রোহীদের সমঝোতায় আনতে চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বই এর অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া মহানগর এবং কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা বিদ্রোহীদের পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাদের সঙ্গে লেনদেনের ইস্যু আছে বলেও আলোচনা রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করছেন। যেকোনো মূল্যে তাদের ভোটের মাঠে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে নানা প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাবেন বলে মনে হচ্ছে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই