মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

আ.লীগ থেকে ছিটকে পড়তে পারেন ৪০ মন্ত্রী-এমপি

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার ০২:৪৭ পিএম

আ.লীগ থেকে ছিটকে পড়তে পারেন ৪০ মন্ত্রী-এমপি

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ হিসাব-নিকাশে সারা দেশের প্রায় ৪০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। বিতর্ক ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় এসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হচ্ছে।

অধিকাংশ আসনে জনপ্রিয় ও নতুন প্রার্থীর নাম আছে দলের মনোনয়নের সম্ভাব্য তালিকায়। কয়েকটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের জনপ্রিয়তার তুলনায় জোট ও মহাজোটের প্রার্থীদের সমীকরণে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন অনেকে।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শক্তিশালী তদবির, জোট-মহাজোটের শরিক দলের সঙ্গে আসন বণ্টন ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত কয়েক সংসদ সদস্য বাদ পড়ছেন তালিকা থেকে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংসদীয় বোর্ডের অন্তত তিনজন সদস্য জানান, মন্ত্রিসভার ৪২ সদস্যের নাম দলের মনোনীত প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তাদের কেউ কেউ এখনো ‘মনোনয়ন ঝুঁকিতে’।

দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে অনেকের ধারণা, একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। তবে নানা হিসাব-নিকাশে শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটছে না দলটি। আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও অনেকেরই দাবি দলের বার্তা পেয়েছেন তারা। পাশাপাশি দলের প্রভাবশালী অনেকের বাদ পড়ার কথাও আলোচনা হচ্ছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন।

নানা বিতর্কে নেত্রকোনায় সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকায় নেই যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের নাম। মনোনয়ন হারাতে পারেন নেত্রকোনা-৩ আসনের ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুও।

বিগত সময়ের নানা বিতর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী বিবেচনায় কক্সবাজার-৪ আসনে আবদুর রহমান বদি, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আমানুর রহমান রানা, টাঙ্গাইল-২ আসনের খন্দকার আসাউজ্জামান, যশোর-২ আসনের মনিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১১ আসনের মোহাম্মদ আমানুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সোহরাব উদ্দিন ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের নাম নেই খসড়া তালিকায়। এসব আসনে নতুন মুখের কথা ভাবছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের মনোনয়ন পাওয়া ‘অনিশ্চিত’ বলে আলোচনা হচ্ছে। ঢাকা-১৩’র ওই আসনে এবার দলে নতুন মুখ আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। মাদারীপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের। উচ্চ আদালতের এক আদেশের ফলে পটুয়াখালী-২ আসনের দলের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের এবার প্রার্থী হওয়া নিয়ে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও হারাতে পারেন মনোনয়ন। ওই আসনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনজুর আলমের। সম্প্রতি তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের মনোনয়ন চান।

দলের বর্ষীয়ান নেতা, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক শেষ পর্যন্ত নওগাঁ-৪ আসনে দলের প্রার্থী নাও হতে পারেন। বয়স ও স্বাস্থ্যগত বিবেচনায় মনোনয়ন নাও পেতে পারেন ‘সাবেক’ ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। একই অবস্থা ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফেরও। জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীকে বয়সের কারণে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে এবার প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। শরীয়তপুর-২ আসনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

প্রবীণ নেতা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত অনেকটা বয়সগত কারণে ‘রাজনীতি থেকে অবসরে’ যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণার পর সিলেট-১ আসন থেকে দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তার নির্বাচন করার আগ্রহ নেই। শেষ পর্যন্ত তার আসনে নতুন মুখ আসছে, নাকি অর্থমন্ত্রীই হতে পারেন প্রার্থী, এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে গুরুতর অসুস্থ দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই এখনো তার আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী। অসুস্থ হলেও ঢাকা-৭ আসনে হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে মনোনয়ন দেওয়ার কথাই এখনো পর্যন্ত বেশি ভাবছে।

নানা হিসাব-নিকাশে এবার মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্য থেকেও কয়েকজন। এবার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে এবার মনোনয়ন না দেওয়ার কথা ভাবছে দল। মনোনয়ন হারাতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুও। দলের খসড়া তালিকায় টুকুর আসনে নাম আছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের। সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানেরও ঢাকা-১ আসনে মনোনয়ন প্রায় অনিশ্চিত।

সূত্র বলছে, ‘সাবেক’ চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর তিনজনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ধর্মমন্ত্রীর নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই