বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ড. কামাল

আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার ০৭:৪৪ পিএম

আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান

ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন, সময় থাকতে মাথা ঠাণ্ডা করে সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। 

রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও নাগরিক শোক র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে  এ কথা বলেন তিনি।

সরকারকে দ্রুত সরে গিয়ে নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যেগুলো করছেন এসব করে বার বার পার পাওয়া যাবে না। আপনারা দ্রুত সরে যান। দেশের মালিক জনগণ। তাদের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেন।

ড. কামাল আরো বলেন, এই জনসভায় যারা আছেন সবাই বলেছেন এবং আমিও বলছি আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি দেশ শাসন করা থেকে সরে দাঁড়ান। নির্বাচন হোক। দেশকে শাসন করবে দেশের মানুষ। সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তারা ঠিক করবে কে দেশ শাসন করবে।

তিনি কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন অভিহিত করে তার মুক্তির দাবির সঙ্গেও একমত পোষণ করেন।

এ সময় ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বেঁচে থাকা নিয়ে সবাই আশঙ্কা করছেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পরে ওনাকে মুক্ত করা হবে না, তিনি চিকিৎসা পাবেন না এটা আমাদের সভ্যতা ও সংবিধান বিরোধী। আমি তার মুক্তির বিষয়ে সবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় আবরারের বাড়িতে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতাদের বাঁধা দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা বাঁধা দিচ্ছে সবাই তাদের নাম তালিকা করে রাখেন। এসব সাংবিধানিক অধিকারে বাঁধাদানকারীদের কড়া শাস্তি হবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যা করা হলো এরা কি মানুষ এমন প্রশ্ন তুলে- ড. কামাল বলেন, এই ছেলেদের আমরা পশু বানাচ্ছি কেন। কারা এদেরকে পশু বানাচ্ছে। বাংলার এই ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এরা সৎ সাহসী ছেলে। এদের আপনারা পশু বানিয়েছেন। যারা মানুষকে অমানুষ বানাচ্ছেন, আপনাদের কি শাস্তি হবে সেটা চিন্তা করেন। কোনও ছেলে পশু হয়ে মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় না।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব লোক মানুষকে পশু বানাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করুন। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশ এখানে কতিপয় লোককে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্রয় দিয়ে পশু বানানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে দলের নামে এখন দেশ শাসন করছে এই দলেতো আমরা সবাই ছিলাম। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে। সেই দলের নামে যে কাজগুলো হচ্ছে সেটাতে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামকে অসম্মান করা হচ্ছে। অসম্মান করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের।

আবরারকে যারা হত্যা করেছে তারা কার আদর্শের অনুসারী প্রশ্ন করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, যিনি দেশ শাসন করছেন এরা তার আদর্শের অনুসারী। এই কি আপনার আদর্শ? এই যদি আপনার আদর্শ হয়ে থাকে তাহলে আর এক মুহূর্তও আপনার সিংহাসনে থাকা উচিত না।

এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৮ অক্টোবর (শুক্রবার) আবরার হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে রাজধানীর যে কোনও স্থানে নাগরিক শোকসভা হবে।

পরে একটি শোক র‌্যালি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ হাইকোর্ট মোড়ে তাদের আটকে দেয়। সেখানে দাঁড়িয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সভা হবে। নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় শোক র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। 

এ ছাড়া জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি নবী উল্লা নবী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। 

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue