সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬

আসামের এনআরসি বাতিলের ইঙ্গিত অমিত শাহের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার ০৯:০৯ পিএম

আসামের এনআরসি বাতিলের ইঙ্গিত অমিত শাহের

ঢাকা : আসামের নাগরিক তালিকা হিতে বিপরীত হওয়ায় এবার তা বাতিলের আভাস দিয়েছে ভারত সরকার। দেশজুড়ে নতুন করে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সারা দেশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে নতুন করে নাগরিক তালিকা হবে বলে বুধবার রাজ্যসভায় জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি) এ নেতা ।

আনন্দবাজারপত্রিকা ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বিজেপি সভাপতির এ বক্তব্যে উত্তর-পূর্ব রাজ্যটির নাগরিক তালিকা কার্যত বাতিলের পথে। চলতি বছরে আসামের নাগরিকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ১৯ লাখের বেশি বাসিন্দা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছেন।

এ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। বাদপড়াদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিজেপিও। শুরুতে এ তালিকা নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও পরে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হলে তা বাতিলে সরব হতে দেখা গেছে দলটির নেতাদের।

অমিত শাহ বলেন, আসামে যা হয়েছে, তা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে হয়েছিল। নাগরিক তালিকা সারা দেশে হবে, সেই সময় আসামেও হবে। কোনো ধর্মের কারোরই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কণ্ঠেও তার কথার প্রতিধ্বৃনি শোনা গেছে। তিনি বলেন, রাজ্যে হওয়া নাগরিক তালিকা পুরোপুরি বাতিল করে সারা দেশের সঙ্গে আসামেও নতুন করে এনআরসি হোক।

আনন্দবাজার বলছে, রাজ্যসভায় অমিত শাহর বক্তব্যের মাধ্যমে আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ছয় বছরের পরিশ্রম, ১৬০০ কোটি টাকা খরচ, হেনস্তা ও বহু মানুষের মৃত্যুর যোগফল কার্যত শূন্যে গিয়ে ঠেকছে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তি দেখাচ্ছে– আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেনস (এনআরসি) বা নাগরিক নিবন্ধন হয়েছে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে। আসাম চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে নাগরিকপঞ্জি তৈরির ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছিল।

‘ভবিষ্যতে দেশের সব রাজ্যে যখন এনআরসির কাজ শুরু হবে; তখন অতীতের একটি নির্দিষ্ট দিনকে ধরে তার ভিত্তিতে তালিকা হবে। কোন বছরের কোন তারিখের ভিত্তিতে ওই কাজ শুরু হবে তা এখনও ঠিক হয়নি।’

আনন্দবাজারপত্রিকা বলছে, একাধিক ভিত্তিবর্ষ ধরে নাগরিকপঞ্জি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই জানিয়ে আসামের এখনকার নাগরিকপঞ্জি বাতিলেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান।

বিরোধীরা বলছে, বাদপড়াদের তালিকায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ হিন্দু থাকায় ভোটব্যাংকে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বিজেপি এখন তালিকা বাতিলের পক্ষে হাঁটতে চাচ্ছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মামলার বাদী আসাম পাবলিক ওয়ার্কস। নাগরিকপঞ্জির সব তথ্য ফের যাচাইয়ের দাবি ছিল তাদের। এ মামলার পরের শুনানি ২৬ নভেম্বর। সংগঠনটির সভাপতি অভিজিৎ শর্মার দাবি, এখন ১৬০০ কোটি টাকা খরচের সম্পূর্ণ অডিটও হোক।

বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিজিৎ মজুমদার বলেন, নোট বাতিল, জিএসটির পর আসামের নাগরিকপঞ্জি বাতিল বিজেপির তুঘলকি শাসনের আরও এক নজির।

তিনি জানান, ১৬০০ কোটি টাকা খরচ হলো, কোটি কোটি মানুষ হয়রান হলেন, বহু আত্মঘাতী হলেন। সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? নাগরিকপঞ্জি সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে হয়েছিল, এখন এটি বাতিল করা অবশ্যই সুপ্রিমকোর্টের অবমাননা।

অন্যদিকে বিজেপির যুক্তি হচ্ছে– সুপ্রিমকোর্ট কেবল নাগরিকপঞ্জি করতে বলেছিল। এর পর ওই তালিকা নিয়ে কি করতে হবে তার কোনো নির্দেশনা ছিল না।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা নাগরিক সমাজের উপদেষ্টা হাফিজ রশিদ চৌধুরী বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের একাংশ চেয়েছিল বেশি করে মুসলিমের নাম বাদ পড়ুক। উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়াতেই হয়তো এনআরসি বাতিল করার কথা বলা হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই