বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল’ ছিল শান্তশিষ্ট মুখোশধারী সন্ত্রাসী’

এন ডি আকাশ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার ০৪:২১ পিএম

‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল’ ছিল শান্তশিষ্ট মুখোশধারী সন্ত্রাসী’

নিরব-আহমদে ইমতয়িাজ বুলবুল

ঢাকা: ‘আমার অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা ‘গুরু ভাই’ যেটা ২০০৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিতে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল’ খুব ভালো অভিনয় করেছিলেন। তার চরিত্র ছিল মূলত ‘নাটের গুরু’। শান্তশিষ্ঠ মুখোশধারী একজন সন্ত্রাসী। সারাক্ষণ ভায়োলিন বাজান, আর কলকাঠি নাড়েন। খুব বেশি সংলাপ না থাকলেও চরিত্রটা ছিল খুব রাশভারী।’  সদ্য প্রয়াত গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল নিয়ে এভাবেই জানালেন  ‘গুরু ভাই’ সিনেমার প্রধান নায়ক নিরব।

এই ছবিতে বুলবুলকে দেখা গিয়েছিলো খল চরিত্রে অর্থাৎ একজন শান্তশিষ্ঠ মুখোশধারী সন্ত্রাসী চরিত্রে যিনি কিনা সবসময় একটা ভায়োলিন বাজাতেন আর কথা বলতেন খুব কম।

গুণী এই মানুষ সম্পর্কে চিত্রনায়ক নিরব বলেন, ‘তিনি ছিলেন অসম্ভব ভালো মনের একজন মানুষ। আমরা যখন একসাথে সিনেমায় কাজ করেছিলাম তখন তার মত এতবড় গুণী মানুষের সঙ্গে কথা বলার সাহস ছিলো না। কিন্তু যখন কথা বলতে গেলাম তখন আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এত বড়মাপের একটা মানুষ কিভাবে এতটা মিশুক হয়, কখনও দাম্ভিকতা ছিলো না ওনার মাঝে।’ 

নিরব বলেন, বুলবুল ভাই নরম সুরে কথা বলতেন। আমি সেদিন প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছিলাম ওনার সঙ্গে। কবিরা যখন কবিতা আবৃত্তি করে তখন তারা ছন্দ মাত্রা বজায় রেখে সেটা করে কিন্তু এই গুণী মানুষটার কথা মানেই যেন ছন্দ। বিশটা শব্দে যদি একটা লাইন লিখা হয়, আর সেটা যদি কবির কবিতা হয় তবে সেটাতে ছন্দ থাকে কিন্তু বুলবুল ভাইয়ের কথা মানেই যেন ছন্দ। আমরা কবিতা যেভাবে আবৃত্তি করি, উনি সেভাবেই কথা বলেন। তার কথার মধ্যেই ছন্দ থাকে। তার কথা বলার ধরনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম।

এই ছবির সবগুলো গান করেছিলেন বুলবুল ভাই। ছবি প্রযোজক সোহেল রানা ভাই (কুয়েত প্রবাসী) ও নির্মাতা এ কিউ খোকন চেয়েছিলেন বুলবুল ভাই অন্তত একবার অভিনয়ে আসুক। সেই জায়গা থেকে তিনি আমার এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। গাজীপুরের একটি শুটিং হাউজে আমাদের কাজ শুরু হয়েছিল।

এছাড়াও আমার ক্যারিয়ারে এখনও যে দুটো ছবির গানের কথা আমি সবাইকে বলতে পারি ‘ওগো চাঁদ’, ‘ঘুমাও ঘুমাও’ এই দুটো গানের পরিচালক এই বুলবুল ভাই। এ গানের কথা সুরগুলো এতো সহজ ছিল মনে হতো আমি যদি আমার কাছের মানুষকে ইমপ্রেস করার জন্য গান করতাম তাহলেই এই সুরই দিতাম। বুলবুল ভাইয়ের সাথে আমার ‘গুরু ভাই’ ছবির পর ভালো সখ্য গড়ে উঠেছিল।  উনি মারা গেছেন শুনে সকালে আচমকা বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠেছিল।

সোনালীনিউজ/বিএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue