মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

পৌরসভা নির্বাচন: কমলগঞ্জ

আ. লীগে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ, কৌশলী বিএনপি

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার ১০:০৩ এএম

আ. লীগে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ, কৌশলী বিএনপি

ফাইল ছবি

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। করোনাকালে প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন।

২০১৫ সালে দেশে প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই মূল নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে জয়ী হতে হবে।

তফসিল ঘোষণার আগেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে যেমন এখন থেকেই গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছেন।

অন্যদিকে, তেমনি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তবে বিএনপির প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনেক কম দেখা যাচ্ছে। মামলা-হামলার ভয়ে অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। আবার কেউবা বলছেন হয়রানি এড়াতে কৌশলগত কারণে এত আগে তারা প্রচারণায় নামছে না। বিগত কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পৌর চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৭ জন।

প্রথমবারের মতো তরুণ প্রার্থী মো. জুয়েল আহমেদ (নৌকা প্রতীক) নিয়ে ৩৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং কমলগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদটি দখলে নেন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্র্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব (তালগাছ) ভোট পেয়েছিলেন ২৮০৪ ও বিএনপির প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ (ধানের শীষ) ২১৩৩ এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী (জগ) ৪২৬ ভোট পান।

এছাড়া রফিকুর আলম ৮০, নজরুল ইসলাম ৮০ এবং মাসুক আহমদ ভোট পেয়েছিলেন ২৩টি। আসন্ন নির্বাচনে কমলগঞ্জে মোট ভোটার হচ্ছেন ১৫২০৩ জন।

এবার ও কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিবেদ লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারেন।

পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জন ও বিএনপির ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন বর্তমান পৌর মেয়র কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. জুয়েল আহমদ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু, উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ও ঠিকাদার মো. হেলাল মিয়া।

অপরদিকে মাঠে কাজ করছেন কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র আবু ইব্রাহিম জমসেদ, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর ও জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব। তারা ইতোমধ্যেই নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে ভাগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের কার্যক্রমে লেগে পড়েছেন।

পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সিংহভাগই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আশাকরি ভোটাররা আমার কাজের মূল্যায়ন করে পুনরায় নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।

উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানুষের কাছে আছি। তাই মানুষের সেবা করার জন্য প্রার্থী হতে যাচ্ছি।

উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু বলেন, জনসেবাকে ইবাদত মনে করি। জনসেবায় নিয়োজিত আছি, আরও বেশি সেবায় নিয়োজিত থাকতে প্রার্থী হচ্ছি।

ঠিকাদার হেলাল মিয়া বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আরও ব্যাপকভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। আশাকরি ভোটাররা অমাকে বিজয়ী করবেন।

আবু ইব্রাহিম জমসেদ বলেন, আমি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবায় নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রেখেছিলাম। তাই এই কাজে নিজেকে আরও নিবিড়ভাবে জড়ানো ইচ্ছায় প্রার্থী হচ্ছি।

জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব বলেন, আমার পরিবার সবসময়ই জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিল। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমি মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।

মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর বলেন, শহরবাসী পরির্বতন চান। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি পেতে চান। তাই উন্নত নাগরিক সেবা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করার ইচ্ছা থেকে প্রার্থী হচ্ছি। যুগান্তর

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue