শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক, জিন তাড়ানোর নামে করতেন নারী-শিশু ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার ০৯:৫৩ এএম

ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক, জিন তাড়ানোর নামে করতেন নারী-শিশু ধর্ষণ

ঢাকা: তিনি মসজিদের ইমাম। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মসজিদে ইমামতি করছেন। একটি মাদ্রাসার শিক্ষকও তিনি। কিন্তু এসব পরিচয়ের অপব্যবহার করে তিনি ধর্ষণ ও বলাৎকার করতেন। আর কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে জিনের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতেন। ধর্ষণ ও বলাৎকারের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতেন। পরে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতেন তিনি।


এসব অভিযোগে গত রবিবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সোমবার (২৩ জুলাই) কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, এই ইমাম এলাকায় এতটাই প্রভাবশালী যে, তাকে গ্রেফতার করে আনার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু যখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার কুকর্মের প্রমাণসহ তুলে ধরা হয় তখন তারাই অবাক হয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ চিৎকার করে কেঁদে বলেছেন, কার পেছনে এতদিন নামাজ পড়েছিলাম আমরা!

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, এর পাশাপাশি একটি মাদ্রাসাতেও শিক্ষকতা করতেন ইদ্রিস আহম্মেদ। তিনি এলাকায় প্রচার করতে থাকেন যে, তার কাছে জিন বন্দি আছে। জিন দিয়ে রোগ সারানো হয়। এমন তথ্য প্রচার হওয়ার পর এলাকার মহিলারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য তার কাছে যেতে শুরু করে। আর এ সুযোগে চিকিৎসার জন্য আসা মহিলাদের জিনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করত এই ইমাম। আর ঐ ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করাতো অন্য সহযোগীদের দিয়ে। পরে সেই সহযোগীকে দিয়েও ধর্ষণ করাতেন ইদ্রিস আহম্মেদ।

তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসায় পড়তে আসা ১০/১২ বছরের কমপক্ষে ১২ জন শিশুকে সে বারবার বলাৎকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ভিডিও ধারণ করে মাদ্রাসা ও মসজিদে থাকা তার খাদেমদেরও তিনি একাধিকবার বলাত্কার করেন জিম্মি করে।

লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ইদ্রিস আহম্মেদকে গ্রেফতারের পর সেসব খাদেমরা অকপটে জিম্মি হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন। এমনকি মাদ্রাসার একাধিক বলাত্কারের শিকার ছাত্রদের মধ্যে একজন ছাত্রকে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি বলাত্কার করে আসছিলেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে তিনি ঘুমাতেন। তার সব অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন করতেন। যেসব নারী একবার তার অপকর্মের শিকার হওয়ার পর আর তার কাছে যেতে চাইতো না, তাদেরকে তিনি জিন দিয়ে ক্ষতি করাবেন বলে ভয় দেখিয়ে আবার ধর্ষণ করতেন।

আবার যেসব শিশু বা শিক্ষার্থী তার নির্যাতনের পর আর পড়তে যেত না, তাদের অভিভাবকদের ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদ বলতেন—যদি তারা না যায় তাহলে আর কখনো ইসলাম নিয়ে পড়ালেখা করতে পারবে না। জিন দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ভয় দেখানোর পর ওইসব শিশুকে ফের তার কাছে পড়তে পাঠানো হতো।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইদ্রিস আহম্মেদ প্রত্যেকটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। অভিযুক্ত ইদ্রিস আহম্মেদের বাড়ি সিলেটে।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue