সোমবার, ২০ মে, ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ইসি পুনর্গঠনে সবার মতের প্রতিফলন ঘটুক

সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, বুধবার ০২:২৯ পিএম

ইসি পুনর্গঠনে সবার মতের প্রতিফলন ঘটুক

রাষ্ট্রের যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেয়া চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী নির্বাচন কমিশনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ সরকারের সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের দূরত্ব কমাতে ভূমিকা রাখবে। দেশের রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির সংলাপের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত একটি বিষয়। রবিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপির সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে এ সংলাপকে গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। বিএনপি সংলাপে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে রাষ্ট্রপতি বেশ সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। 

একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ইসি গঠন সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং কাজ। অতীতে যে কোনো সময়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনও ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে খুশি করতে পারেনি। ইসির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে ইস্যু করে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন-বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে আমাদের দেশে। ইসি নিরপেক্ষ নয়, এমনটি দাবি করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো অংশ নেয়নি। আবার বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গঠিত ইসির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর আন্দোলনের বিষয়টিও দেশবাসী জানে। এসব দিক বিবেচনায় একটি নিরপেক্ষ ও সর্বসম্মত ইসি গঠনের বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। রবিবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। দলটি গ্রহণযোগ্য একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও পেশ করে। বিএনপি রাষ্ট্রপতির সংলাপ আহ্বানে অংশ নিয়ে গণমুখী প্রক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করল। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি শুভ উদ্যোগ, যা বিবদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারে- এমনটিই আমাদের বিশ্বাস। 

ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত নির্বাচন কমিশন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন সর্বোপরি রাজনৈতিক বিষোদগার, হানাহানি, বিদ্বেষ থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে চাইলে এমন একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যে কমিশন হবে সর্বজনগ্রাহ্য। আমরা আশা করি, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরপেক্ষ ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল ইসি কিংবা নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি করতে না পারে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন নেতৃত্ব দিক- এমনটি দেশবাসী প্রত্যাশা করে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমটিআই