বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

ঈদের আগেই মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার ০১:২০ পিএম

ঈদের আগেই মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

ঢাকা : ৫ বছরের সাজা নিয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে এ সাজা দেয় আদালত। এরপর অসুস্থতার কথা বলে তার আইনজীবীরা বার বার জামিন আবেদন করলেও মেলেনি। বরং সচল হয়েছে আরও কয়েকটি মামলার কার্যক্রম।

তবে আইনজ্ঞরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই হয়তো তার মুক্তি ঠেকিয়ে রাখা হয়। এখন কেবল সরকার চাইলে তার মুক্তি মিলতে পারে। সরকার গঠন হয়ে যাওয়ায় আগামী রমজানের আগেই হয়তো তার মুক্তি মিলবে, এমনটা মনে করছেন আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তির বিষয়টি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। আমরা একটায় জামিন নেবো, সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে, আবার নতুন মামলা দিবে। তাদের কাজই হলো সময়ক্ষেপণ করা।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সরকার নিজ দায়িত্বে মামলাগুলো মূলতবি রেখে চিকিৎসার সুযোগ করে দেবে। যে মামলা আছে তা সাতদিনের মধ্যে শেষ করা যায়, কেবল সদিচ্ছা দরকার। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালত নয়, সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

খন্দকার মাহবুব বলেন, খালেদা জিয়াকে যে অবস্থায় কোর্টে হাজির করা হয় তা অমানবিক। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তবে সরকার নমনীয় হলে রমজানের আগে মুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন এই সিনিয়র আইনজীবী।

জানা গেছে, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে এক এগারোর তত্ত্ববধায়ক সরকার আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গত দশ বছরে দায়ের হয় ৩২টি মামলা। তবে কয়েকটি ছাড়া সব মামলাতেই জামিনে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এখন মুক্তির জন্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন নিতে হবে খালেদা জিয়াকে। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টে খালাস চেয়ে আবেদন করলে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়, সেইসঙ্গে জামিনও চাওয়া হয় এ মামলায়।

আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত ৭ বছরের সাজা দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জামিন চাওয়া হয়েছে এ মামলায়।

এর বাইরে সম্প্রতি কুমিল্লার হত্যা মামলায় জামিন হয়েছে খালেদা জিয়ার। যদিও এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর দুটি মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারিক আদালত।

এরমধ্যে ধর্মীয় উস্কানির মামলায় ওয়ারেন্টসহ জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তির মামলায় আগামী ৩০ এপ্রিল গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

এছাড়া গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে। আর নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই