শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ঈদের দিনে সেমাইও জোটেনি!

সোনালীনিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ জুন ২০১৯, শুক্রবার ০৮:৫৭ এএম

ঈদের দিনে সেমাইও জোটেনি!

ঢাকা: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কেউ ঈদের আগেই চলে যান গ্রামের বাড়ি। আবার কেউ থেকে যান নিজ নিজ কর্মস্থলে। কিন্তু কে কিভাবে ঈদ উদযাপন করেন তার কে কার খোঁজ খবর রাখেন। এই যে ধরুন রাজধানীর তৃণমূলে খেঁটেখাওয়া মানুষগুলোর কথা। এসব মানুষের কাছে ঈদের দিন কোনো বিশেষ দিন নয়! বছরের আর দশটি দিনের মতোই পরিশ্রম করে কাটে তাদের।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন সবাই তখন শ্রমজীবী এসব মানুষ দারিদ্র্যের গ্লানি টেনে ঈদের দিনেও শ্রম বেচে চলেছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা জানা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কর্মজীবী এসব মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই রিকশা, ভ্যানচালক কিংবা বাসচালক অথবা বাসা-বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী। তারা একদিন বসে থাকলে পরদিন পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জোটাতে পারবেন না। তাই পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করাই তাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

এসব কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি মাসে বা প্রতিদিন যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। এর মধ্যে কোনোভাবেই কাজ বাদ দিয়ে বাড়ি যাওয়া তাদের জন্য সম্ভব নয়। ফলে ঈদের মধ্যেও তাদের উপার্জন করতে হয়।

রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় যাত্রী নিয়ে উত্তর বাড্ডায় নামালেন রিকশাচালক মো. ইসমাইল। ঈদ কেমন কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আর ঈদ! সারাজীবন তো কাজ কইরাই মরি। বাড়ি যাইতে পারি নাই, হের লাগি ঈদের দিন সকালে কপালে সেমাইও জোটেনি!

তিনি বলনে, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য নতুন জামা কিনেছি দিছি। অনেক টাকা খরচ হইছে। তাই এহন ঈদের মৌসুমে রিকশা চালায়া বাড়তি কিছু আয় করতাছি। নইলে ঈদের পরে চলতে পারব না।

ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি রাজধানীর কালাচাঁদপুরের একটি বাসার নিরাপত্তা কর্মী মো. জব্বারের মনে। তিনি বলেন, সবাই তো বাড়ি চলে গেল, আমরা চলে গেলে বাড়ি পাহারা দিবে কে? বাড়িতে মা-বাবা, স্ত্রী ও পুত্র থাকলেও দায়িত্বের কারণে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

অনাবিল সুপার পরিবহনের একটি বাসের হেলপার মো. রুবেল বলেন, অভাবের সংসারে আনন্দ করা যায় না। ঈদের দিন ও এরপরের কয়েক দিন ইনকাম ভালো থাকে। তাই টানাটানির সংসার চালাইতে ঈদের দিনও কাজ করা লাগে আমাগো।

ঈদের দিন ও এর পরের কয়েক দিন সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু ঠিক তখনই ইসমাইল, জব্বার ও রুবেলদের মতো কর্মজীবীদের জীবনের তাগিদে কাজ করে যেতে হয়। পরিবারের লোকজনের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের কাছে প্রকৃত ঈদ।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue