মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬

ঈদের পর ঘর গোছানোর মিশনে আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ জুন ২০১৯, বুধবার ০৮:০৭ এএম

ঈদের পর ঘর গোছানোর মিশনে আ.লীগ

ঢাকা : ঈদের পর ঘর গোছানো মিশনে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ মিশন। এ জন্য আট বিভাগের আট টিম সারা দেশ চষে বেড়াবে। তাদের লক্ষ্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন। তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে মহানগর, জেলা ও উপজেলায় সর্বশেষ কবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার দিন-তারিখ দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা নির্দিষ্ট করে নতুন সম্মেলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম তাদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ গুছিয়ে আনছে।

এর আলোকে চলতি রমজানেই কুষ্টিয়া, খুলনা, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর, রাঙামাটি, নোয়াখালীতে দলের বর্ধিত সভা করে কেন্দ্রের নির্দেশনা জানানো হয়েছে।  

সূত্র জানায়, যেসব জেলা ও উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হয়নি, কোন্দল বিরাজমান, সংগঠন দুর্বল, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, সেসব জেলা ও উপজেলায় সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া যেসব জায়গায় সংগঠনে বিএনপি-জামায়াত বা অন্য সংগঠন থেকে অনুপ্রবেশ হয়েছে, বিতর্কিত কাজের কারণে সমালোচিত তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দলের শুদ্ধি অভিযানে এসব বিতর্কিতকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া যোগ্য ও অযোগ্য নেতাদের তালিকাও করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আট বিভাগে জন্য আট টিম গঠন করে দিয়েছেন। আমরা যারা খুলনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম প্রায় প্রত্যেক জেলায় বর্ধিত সভা করেছি। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন করার তাগাদা দিয়েছি। ঈদের পরই পুরো কাজ শুরু করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলের সম্মেলনের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ থাকলে তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের পরবর্তী বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলাগুলোর কাউন্সিল শেষ করার তাগিদসহ সার্বিক প্রস্তুতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের কিছু নির্দেশনা দেন দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই নির্দেশনার পর প্রাথমিকভাবে ৭৭টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে যেসব জেলা ও উপজেলার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এর অংশ হিন্ডেন্ডেসব গত ১১ মে খুলনা বিভাগ থেকে জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা শুরু হয়।

খুলনা বিভাগের ৫টি, নীলফামারী ও রংপুর জেলার ৫টি উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের পরপরই ওইসব উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী অক্টোবরেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে জেলা-উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন শেষ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী চলা তৃণমূলের সম্মেলনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হবে। আগস্ট মাসজুড়ে শোকের কর্মসূচি থাকায় ওই মাসে কোনো সম্মেলন হবে না।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, ‘তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোন কোন জেলা-মহানগর ও উপজেলায় সম্মেলন করা প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করেছি। ঈদের পরই আমাদের মিশন শুরু হবে। তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করেই কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দলে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলেছে। এবার এসব সুবিধাভোগীক বিতাড়নের মিশনে নামছেন দলের নেতারা। ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলেও কোনো না কোনোভাবে শাস্তির আওতায় আসবেন অনুপ্রবেশকারীরা। সম্মেলনে তাদের কোনো পদ-পদবিতে রাখা হবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই