বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

উপকূলে চলে এসেছে ‘বুলবুল’ আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার ০৬:৫২ পিএম

উপকূলে চলে এসেছে ‘বুলবুল’ আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছে চলে এসেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র বাতাসের গতিবেগ ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে কলকাতায় ঝড়ো বাতাসসহ ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। 

এদিকে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা কর্তৃপক্ষ। তীব্র গতিতে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবারই রাজ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায়, বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে খুব বেশি দূরে অবস্থান করছে না। শনিবার বিকেলের পর এটা আঘাত হানবে। এরফলে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুলবুলের প্রভাব পড়বে রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতেও। বিভিন্ন জায়গায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে কলকাতা পুলিশ ও দুর্যোগ বিপর্যয় বাহিনী। ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পাশ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশা।

স্থানীয়রা বলছে, বুলবুলের অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বেশ কিছু আশ্রয়কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে। এরইমধ্যে, বুলবুল মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশায় অন্তত ৩৪টি দল পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রবল আকার ধারণ করে ভারতের সুন্দরবন অংশের দিকে ধেয়ে আসছে। ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বাংলাদেশেও। বড় ধরনের বিপর্যয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বরগুনায় থেমে থেমে ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুলবুল মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টার পর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিতে বলা হলেও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের খবর পাওয়ার পর থেকেই মূলত বেলা এগারটা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বরইতলা এলাকার বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিতে এসেছেন বৃদ্ধ এক ব্যক্তি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন,‘বুড়া বয়সে বাবা এমন বইন্যার কবলে পইর‌্যা জীবনডা খুয়ামু, হেইতে তাড়াতাড়ি আশ্রয় নিতে আইছি, যদি পরানডা বাঁচে।’ একই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন আবদুর রহমান ও তার পরিবার।

এবিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ১০ নাম্বার বইন্যা আইতে আছে। মোর বাড়ি ঘরের যে অবস্থা, এট্টু বাতাস ছোডলেই ঘরডা ভাইঙ্গা পড়তে পারে। মোর গুরাগারা লইয়া হেইতে নিরাপদে আশ্রয় লইতে আইছি।

পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপদোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের আশ্রয় নিতে আসা আবদুল মজিদ বলেন, ‘মোরা অবদার পাড়ে থাহি। এট্টু বাতাস ছোডলেই কইলজাডা কাইপ্পা ওডে। ডরের চোডে আগেই আশ্রয় কেন্দ্রে আইয়া পড়ছি।’ 

পোটকাখালী আশ্রয় কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক মানুষ ইতোমধ্যেই এই কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পোটকাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, ইতোমধ্যেই আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে, এদের অধিকাংশই নারী, বৃদ্ধ ও শিশু। 

এছাড়াও দু’জন প্রসূতি নারীও আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ দুপুর বারোটার দিকে এই আশ্রয় কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছেন। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৩৪১টি সাইক্লোন শেল্টারসহ মোট ৫০৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। যাতে ৫ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়াও পর্যপ্ত খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ৪২টি মেডিকেল টিম প্রস্তত রয়েছে। এছাড়াও সিপিবির ৬৩৩০জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন। 

এদিকে, জেলার আভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরণের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে সহযোগীতার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে যাতে নারী শিশু বৃদ্ধ ও গর্ভবতি নারীরা বিশেষ সুবিধা পায় সেজন্য নির্দেশনা রয়েছে। 

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টা নিয়েছি।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue