বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

ঋণ নিয়ে ভোটের খরচ মেটাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ০১:৫১ পিএম

ঋণ নিয়ে ভোটের খরচ মেটাচ্ছে সরকার

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খরচ জোগাতে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে উচ্চ সুদে ঋণ সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক থেকেও টাকা নেওয়া হচ্ছে। বন্ড ও নিলামের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে এ জন্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, কিছুদিন আগেও জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নিয়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করেছে। তবে গত বুধবার ৮০০ কোটি টাকা নিয়েছে বন্ড নিলামের মাধ্যমে। এ ছাড়া নভেম্বরে ব্যাংক থেকে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। চলতি মাসে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করছে না। অন্যদিকে বিদেশি অনুদানও কমে গেছে। অথচ সরকারি ও নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থের দরকার বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায়। গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ দশমিক ৯৭। চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে ব্যাংক আমানতের সুদ কমে গেছে। আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারবাজারে সূচক এক দিন বাড়লে পরের দিনই পড়ে যায়। ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগই এখন নিরাপদ ভাবছে মানুষ। ফলে ব্যাপকভাবে বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম চার মাসেই পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে।

ব্যাংকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা মিলছে সঞ্চয়পত্রে। এ জন্য মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। বেশি সুদ থাকায় পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেশি।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর- এ চার মাসে সঞ্চয়পত্রে মোট জমা হয়েছে ১৭ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, যা পুরো বছরের মোট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। যা ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে দুই হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি।

জাতীয় বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক ও বাকি ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে আসবে। নভেম্বর মাসে হুট করেই সরকারকে অতিরিক্ত দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানানো হয়। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে ডিসেম্বর মাসে তিন হাজার কোটি টাকা নিতে পারে সরকার। এ জন্য বন্ড ও বিল নিলামের ক্যালেন্ডারে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার মোট ঋণ নিয়েছে ছয় হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। দুই মাসে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নিয়েছে ১৫ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতিতেও সরকারের ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ১০ দশমিক চার শতাংশ। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন বড় একটি আয়োজন। এটি করতে সময়ে সময়ে নগদ টাকার দরকার হচ্ছে। এ চাহিদা মেটাতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। তবে এতে বেসরকারি খাতে কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। যে চাহিদা বেড়েছে, তা খুব বেশি বলা যাবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue