শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

এই বিশ্বকাপটা খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স

ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার ১২:৫৫ পিএম

এই বিশ্বকাপটা খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স

ঢাকা : হঠাৎই একদিন সবাইকে চমকে নিজের অবসর ঘোষণা করে দিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। গত বছর মে মাসে এই খবর সামনে আসতেই কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সকলেরই মাথায় তখন একটাই কথা এসেছিল, বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে কেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন এবি? তখনও তিনি ক্যারিয়ারের তুঙ্গেই ছিলেন।

১১৪ টেস্ট, ২২৮টি ওয়ানডে ম্যাচ ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলা বিশ্ব ক্রিকেটের তারকার এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে তেমনভাবে কখনওই জানা যায়নি। কিন্তু তিনি খেলা চালিয়ে গিয়েছেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। এবং সেখানে তিনি তাঁর সেরা ফর্মই দেখিয়েছেন। যা দেখে অবসরের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন বেড়েছে।  

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কয়েকদিন আগেই তাঁর অবসরের কারন খোলসা করেছেন এবি ‘ব্রেকফাস্ট উইথ চ্যাম্পিয়ন্স' অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন ক্রমশ তাঁকে অবহেলা করা হচ্ছে।

ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম, কিন্তু আমি ছেড়ে দিলাম, অবসর নিলাম। পরিস্থিতিটা খুবই সংবেদনশীল ছিল। গত তিন বছরে আমার গায়ে তকমা লেগে গিয়েছিল কখনও আমাকে দলে নেওয়া হবে, কখনও না। আমি বাড়ি ফিরে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলাম। সেটাও একটা কারণ। ছেড়ে দেওয়াটা এর থেকে বেশি কঠিন ছিল না।'

এর পর থেমে মজা করে বলেন, ‘আমি কিন্তু আবার বিশ্বকাপ খেলতে পারি যদি আবার সেই নেওয়া না নেওয়া শুরু হয়। এরকম কিছু একটা করার জন্য আমি মুখিয়ে রয়েছি। কারও পক্ষে ব্রেডের দু'পাশেই বাটার পাওয়া সম্ভব নয়।' এর সঙ্গে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমাকে পাশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমি কখনও দলের বাইরে বেরিয়ে নিজের কথা ভাবিনি। কিন্তু আমি একটা সময় নিজেকে এমন একটা জায়গায় পেলাম যেখানে আমি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। যা দেখে মনে হতেই পারে আমি শুধু নিজের কথাই ভেবেছি।'

অবসরের কারণ হিসেবে সেই সময় অবশ্য তিনি প্রাথমিকভাবে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার কথাই বলেছিলেন। সঙ্গে এটাও জানিয়েছিলেন আরও গভীর কোনও কারণ রয়েছে যা সময় এলে তিনি জানাবেন,‘ আমার সরে দাঁড়ানোর পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। এর পিছনে অনেক বিষয়ের ভূমিকা ছিল। পরিবার অবশ্যই একটা বড় অংশ। এবং দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলাটা চালিয়ে যাওয়া। আমি ১৫ বছর খেলে ফেলেছিলাম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।

সব সময় ব্যস্ত থাকা, চাপের মধ্যে থাকা, সারাক্ষণ মানসিক গেম খেলা, সারাক্ষণ একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে সংশয়ে থাকা যা বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। এবং দীর্ঘসময় দলের অধিনায়ক থাকায় সেটা আরও বেশি করে দেখা দিয়েছিল। আরও কিছু গভীর বিষয়ও ছিল যা আমি ৫০ বছরে গিয়ে একদিন বলব।'

২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের। টেস্টে ৮৭৬৫, ওয়ানডেতে ৯৫৭৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৬৭২ রান করেছেন তিনি। ৫০-এর উপর গড় টেস্ট ও ওয়ানডেতে।

সোনালীনিউজ/আরআইবি/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue