বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

একটি গাছেই মিলবে আলু ও টমেটো!

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, রবিবার ০৪:২৪ পিএম

একটি গাছেই মিলবে আলু ও টমেটো!

ঢাকা: গাছের উপরে এক ধরনের ফল, মাটির নিচে অন্য ধরনের ফল উৎপাদিত হবে- এমনটি ভেবেছেন কখনো? না ভাবলেও সম্প্রতি এ ধরনের গাছ উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আলু গাছে আলুর পাশাপাশি টমেটো ফলানোর মত কঠিন কাজটি করেছেন তারা। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘টমটেটো’ বা ‘পমেটো’।

যুক্তরাজ্যের গবেষকরা সম্প্রতি একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদন করার ধারণার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। এতে আলু ও টমেটোর স্বাদ অক্ষুণ্ন থাকে। এর জন্য তারা গ্রাফটিং বা জোড় কলমের আশ্রয় নিয়েছেন। চেরি টমেটোর সঙ্গে সাদা গোল আলুর জোড় কলম পদ্ধতিতে এগুলো উৎপাদন করা সম্ভব।

যেভাবে ফলানো হয়: আলু এবং টমেটো একই গাছে ফলানোর উপায় হচ্ছে আলু গাছে টমেটোর গ্রাফটিং পদ্ধতি। টমেটো এবং আলু একই ঋতুর ফসল। তাই একই গাছে দুই ফসল উৎপাদনের ফলে সময় যেমন বাঁচে; তেমনি নিশ্চিত করা যায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার। এ জন্য মাটির উর্বরা শক্তি সর্বাধিক হওয়া দরকার। জমিকে সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য এটি দারুণ উপায়। প্রথমে আলু গাছ লাগাতে হবে। সেটিকে পরিণত হতে দিতে হবে। তারপর ফসল উঠানোর সময় সব আলু গাছ মূলসহ না উঠিয়ে কয়েকটি রেখে দিতে হবে। সেগুলোতে গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে হাইব্রিড গাছ ‘টটোমেটো’ বা ‘পমেটো’ তৈরি হবে।

চাষের উপকরণ: প্রথমেই প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছ নিতে হবে। আলু গাছের কাণ্ডের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিতে হবে। এরপর একটি ধারাল ছুরি অথবা কাটার নিতে হবে। সবশেষে রেপিং টেপ নিতে হবে।

পদ্ধতি: একটি প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছকে (স্টক) মাটি থেকে প্রায় ১ ইঞ্চি উপরে ভি শেপ করে কেটে নিয়ে উপরের অংশটি ফেলে দিতে হবে। অন্যদিকে একটি টমেটো গাছকে (সায়ান) মাটি থেকে ৬-৭ ইঞ্চি কেটে আগাসহ উপরের অংশটি কেটে নিতে হবে। আলু গাছের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিলে গ্রাফটিং করতে সুবিধা হয়। তারপর টমেটো গাছের কাটা অংশটি আলু গাছের কাটা অংশটির উপর প্রতিস্থাপন করতে হবে। গ্রাফটিং করা অংশটি রেপিং টেপ দিয়ে ভালোভাবে পেঁচিয়ে দিতে হবে। প্রতিস্থাপিত অংশ থেকে নতুন পাতা গজানোর আগ পর্যন্ত রেপিং টেপ খোলা যাবে না।

সুবিধা: গ্রাফটিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- এটি সময় এবং স্থান সাশ্রয়ী। একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদনের ফলে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম