বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

একশো বছর আগেও হয়েছিল এমন মহামারী

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ মে ২০২০, শনিবার ১২:৫৫ পিএম

একশো বছর আগেও হয়েছিল এমন মহামারী

ঢাকা : একশো বছর আগেও মানুষ আজকের মতোই মহামারি মোকাবিলা করেছিলো অনেক কম অর্থনৈতিক ও চিকিত্সা সুবিধা সম্বল করে!সভ্যতা খেসারত দিয়েছিল বিশাল; তবুও শেষ পর্যন্ত মানুষই হয়েছিল বিজয়ী!

পৃথিবীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আজকের কোভিডের মতই আরেকটা ফ্লু মহামারী পৃথিবীকে আঘাত হেনেছিলো। ইতিহাসে এর নাম স্পেনিশ ফ্লু। ১৯১৮ সালের জানুয়ারী থেকে ১৯২০ সনের ডিসেম্বর অবধি এই রোগ ৫০ কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়েছিল যা ছিলো তৎকালীন বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ। আনুমানিক দুই থেকে পাঁচ কোটি বা কোন কোন হিসাবে দশ কোটির মত মানুষ এতে মারা গিয়েছিল!

১৯১৮-২০ সালে কোভিড -১৯ এর উপসর্গের মতোই ছিলো স্পেনিশ ফ্লু'র উপসর্গ। তখন মানুষ বলতো, "আমি বিছানায় গেলাম এবং হঠাৎ করেই অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম। জীবনে নিজেকে কখনো এতোটা অসুস্থ মনে হয়নি। শরীরে প্রচণ্ড রকমের ব্যথা, ক্লান্তি আর অবসাদে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। গায়ে প্রচণ্ড জ্বর সাথে কাশি আর শ্বাস কষ্ট।"

মানুষ তখনও মাস্ক পরে ঘুরতেন বা রুমালকে ভাঁজ করে দস্যুদের মতো মুখোশ লাগাতেন। এক মানুষ অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। হাত ধুতেন তবে সকালে ও বিকালে আর নাকের ভেতরেও সাবান পানি ঢুকিয়ে পরিষ্কার করতেন। জোর করে হাঁচি দিয়ে তারপর লম্বা শ্বাস নিতে বলতো ডাক্তাররা।

সরকার গুলো তখন সাম্রাজ্যবাদী চক্করে আবদ্ধ। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও জাতি পরাধিন। যোগাযোগ ব্যবস্থাও আজকের মত উন্নত ছিলোনা। সরকারগুলো সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই চলমান বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার ভেতরেও বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় উদ্যোগ নিয়েছে, লক ডাউন, কোয়ারান্টাইন, সচেতনতার কর্মসূচি ও সাধ্যমত সমসাময়িক আধুনিক চিকিত্সার ব্যবস্থাপনা করেছিল।

১ম বিশ্বযুদ্ধের শেষ বছরে স্প্যানিশরা এই ফ্লু নিয়ে এতো বেশি লেখালেখি করছিলো যে রোগটির নামই হয়ে যায় স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ এর ডিসেম্বর থেকে তিনটি বছর বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে এই রোগটি পুরো পৃথিবী থেকে ১৯২০ সালের ডিসেম্বরে বিদায় নেয় । তিন বছরে পরপর তিনিট ওয়েভে এই ফ্লুতে আনুমানিক দুই থেকে পাঁচ কোটি লোক মারা গেলো। নির্মম সত্য হলো, কোন চিকিৎসা অথবা কোন ভ্যাকসিন ছাড়াই প্রকৃতির নিয়মেই এই মহামারী নিজে নিজে শেষ হয়ে যায়।

মানুষ সীমিত সুযোগ সুবিধার মাঝে চলমান বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির যথাযথ আত্মনিয়োগে মহামারী জয় করেছিল একশ বছর আগে। আরো অনেক মহামারী-দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষ-যুদ্ধবিগ্রহ মানুষ অতিক্রম করে আজকের সময়ে আসতে পেরেছে।মানুষের টিকে থাকার লড়াই চিরকালিন-চিরন্তন; মানুষ যোগ্যতর হয়েই টিকে থাকে।

দৃষ্টিভঙ্গি একটি আশ্চর্যজনক যোগ্যতা। সময়ের সাথে সাথে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় এটি হতে হবে পরিশ্রুত এবং আলোকিত হতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ভয় পেলে চলবে না।

ছবিগুলিতে একশত বছর আগের, কোভিডের মতই মহামারী নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন লিফলেট ও সংবাদ, ঠিক আমাদের টিভিগুলি আর ফেসবুক যা বলে সেইরকম বিষয় গুলো দেখা যাচ্ছে। ১০০ বছরে তেমন কিছুই বদলায়নি, খুঁটিয়ে ছবিগুলি দেখলে বুঝতে পারবেন। হয়তো মানুষ তখন আরো বেশী সচেতন ছিলো নানা গুজবের মাঝেও।

Credit Western Archive of Photographs, and Getti image.
Courtesy: Shayla Sharmin .

সংগৃহীত

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue