বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি

বিনোদন ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২০, সোমবার ০৪:৩৯ পিএম

এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি

ঢাকা: দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তিনি এখন রাজশাহীতে বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।

এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, দাদার অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’। এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এখানে আমাদের বাসা ও ক্লিনিক একসঙ্গে। তাই এখানেই অক্সিজেন দিয়ে রেখেছি। এখন কথা বলার মতো অবস্থায় আমরা নেই।

এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে কোনো ধরনের গুজব না ছড়াতে অনুরোধ করেন বিপুল। তিনি বলেন, ভালো-মন্দ যাই ঘটুক, আমরাই জানাব। আমরা মানসিকভাবে এমনিতে ভালো নেই, কোনো গুজব ছড়াবেন না প্লিজ।

এদিকে শিল্পীর অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দুই ছেলেমেয়ে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশেষ ফ্লাইটের টিকিট পাওয়াটাও বেশ কষ্টসাধ্য। সে চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন এন্ড্রু কিশোরের দুই সন্তান। টিকিট পাওয়ামাত্রই তারা দেশে ফিরবেন।

এদিকে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যু নিয়ে অনেকে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে ফেসবুকে। এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে তার পরিবার। তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু জানান, শিল্পীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর আগে কিংবদন্তিকে মৃত ঘোষণা না করতে অনুরোধ জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গত বছরের ৯ সেপ্টেস্বর শরীরের নানা জটিলতা নিয়ে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর থেকেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ছয়টি ধাপে তাকে মোট ২৪টি কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সেখানে কয়েক মাস আটকে থাকার পর ১১ জুন রাতে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয়েছে তাকে। ঢাকায় ফেরার দুদিন পরই রাজশাহীতে চলে যান তিনি।

প্রথম দফার চিকিৎসা শেষ হলেও চেকআপের জন্য তিন মাস পর পর তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হবে। তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা সহায়তা করেছিলেন।

১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু করা এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। কয়েক হাজার সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

সোনালীনিউজ/টিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue