শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

এবার কাদের-বিদিশা লড়াই

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার ০২:২৩ পিএম

এবার কাদের-বিদিশা লড়াই

ঢাকা : এরিক কার? পিতা এরশাদ হলে মাতা বিদিশা না অন্য কেউ। গর্ভধারিণী হলেও বিদিশা কি গর্ভধারণ পর্যন্তই মা? তাহলে পরবর্তী জীবন এরিকের মাতৃপরিচয় কি?

সন্তান এরিক আর মা বিদিশাকে নিয়ে এমন প্রশ্নে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল পুরো দেশে। এর সঠিকতায় মাতৃত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি লড়াই চলছিল। ঘটনার একপাশে ছিলেন বিদিশা অন্যপাশে প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ।

১১ বছর আগেই ওই প্রশ্নের মিটমাট হয়েছিল। বিদিশার গর্ভেরই এরিক, মাও তিনি, তা আদালত বলেছেন। এবার দ্বিতীয় দফায় লড়াইয়ে নেমেছেন আলোচিত ফ্যাশন ডিজাইনার বিদিশা সিদ্দিক। তিনি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী। বিদিশা এবং তার সাবেক স্বামী এরশাদের ছেলে এরিক এখন রাজনীতিক অঙ্গনে আলোচনায়।

গত ১৪ নভেম্বর এরিকের ডাকে রাজধানীর বারিধারায় ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’-এ আসেন বিদিশা। সেখানে আগে থেকেই আছেন এরশাদপুত্র এরিক। গত সোমবার গুলশান থানায় দায়ের করা জিডিতে এরিক বলেছেন, মা কাছে না থাকায় তার যথাযথ সেবা হচ্ছে না।

তিনি প্রতিবন্ধী, তাই সঙ্গে মাকে রাখা প্রয়োজন। এরপরই আলোচনার ডালপালা ছড়ায় ব্যাপকভাবে।

নানা প্রশ্ন খোদ জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন মহলে। সকাল-বিকাল-সন্ধ্যায় ভোল পাল্টানো নেতা এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টিতে আবার নতুন করে কোন খেলা শুরু হলো? কোন আশায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন সাবেক স্বামীর বিলাসবহুল বাসভবনে? শুধুই কি সন্তান নাকি আরো কিছু?

অন্যদিকে উল্টো আলোচনার গতিমাত্রাও কম নয়। এরশাদপত্নী রওশনের রাজনীতির চালের পাল্টা চাল। নাকি এরশাদের সম্পত্তি হস্তগত করার কৌশল। প্রতিবন্ধী ভাতিজা এরিককে পুঁজি করে জি এম কাদের চাচার কৌশল?

তবে শেষ দেখতে আরো অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং বিদিশা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে বিদিশা বলেন, আমি ওর লিগ্যাল গার্ডিয়ান। আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে তার ডাকে এই বাসায় এসেছি।

আমি প্রথমবার আইনি লড়াই করেছি মাতৃত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, এবার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য দ্বিতীয় লড়াইয়ে নেমেছি।

ওইসময় আমার পাশে কেউ ছিল না এবার নিজের সন্তানকে পেয়েছি-এটাই আমার বড় শক্তি। সন্তানের বাইরে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। এরিক এখানে থাকতে বললে থাকব, আর যদি আমার সঙ্গে গুলশান যেতে চায় তাহলে সেখানে নিয়ে যাব।

‘আপনি এরিকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে স্বীকারোক্তি নিচ্ছেন’-এমন প্রশ্নের জবাব নিজে না দিয়ে তিনি একই ফোনে এরিকের কাছে দেন। এরিক বলেন, আমার চাচা (জি এম কাদের) আমার সেবায় যোগ্য নন।

তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত পার্টি (জাতীয় পার্টি) ও রাজনীতি নিয়ে থাক, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত, আমি আমার মাকে নিয়ে থাকতে চাই। আমার বাবার (এরশাদ) সম্পত্তির ওপর চাচার (জি এম কাদের) লোভ লেগেছে। তাকে ট্রাস্টে রাখা হয়নি, তাই তিনি এসব করছেন।
সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো দাবি থাকবে না—পার্টির সবার সামনে চাচাকে সম্পত্তি চাইতে হবে। আমি দিয়ে দেব। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট পার্কও ছেড়ে দেব, আমি আমার মায়ের সঙ্গে চলে যাব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বলেন, এরিকে এখানে (প্রেসিডেন্ট পার্ক) কীভাবে রাখা হয়েছে, আমি তাকে পেয়েছি তা বলে বুঝাতে পারব না। তার কাছ থেকে সন্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অপকৌশল চলছে বলে অভিযোগ করেন বিদিশা।

তিনি অভিযোগ করেন, এরিক তাকে জানিয়েছেন, ওই বাসার এক গাড়িচালক তাকে (এরিক) মারধর করেছে। কেউ তাকে এক বেলার বেশি খেতে দেয় না। এরিক নোংরা পরিবেশে থাকছিল। গৃহকর্মীরা নিজেদের মতো করে থাকে, এরিককে দেখার মতো কেউ এ বাসায় নেই।

এদিকে একগুচ্ছ অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সেই জি এম কাদের এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখন রংপুরে আছি। গণমাধ্যমে সবকিছু শুনছি, দেখছি। ঢাকায় এসেই সবকিছু গণমাধ্যমকে জানাবো। এর বাইরে কিছু বলতে চাননি তিনি।

অন্যদিকে চাউর আছে যেই দাবি নিয়ে বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করছেন তার উল্টোটাও হতে পারে। এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং প্রয়াত এরশাদ পরিবারের হাতে আছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ঠজন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই