শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

দুদকের ঘুষ মামলা

এবার ফাঁসছেন মিজান-বাছির

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার ০১:৪১ পিএম

এবার ফাঁসছেন মিজান-বাছির

ঢাকা : ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত হতে যাচ্ছে পুলিশের সাময়িক বরখাস্তকৃত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুদকের পরিচালক এনামুল বাছির।

তাদের মধ্যকার অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক রিপোর্ট ও অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান টিম। চলতি সপ্তাহে তাদের আসামি করে মামলা করা হবে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে কী থাকছে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, অনুসন্ধানকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিআইজি মিজানের বক্তব্য নেওয়ার পরপরই অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে পারে।

আসামির সংখ্যা কেমন হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরই আসামি হচ্ছেন। তদন্ত পর্যায়ে কী হবে, তা আগে থেকেই বলা যায় না। কারণ আমাদের দায়িত্ব শুধু ঘুষ কেলেঙ্কারি বিষয়টি অনুসন্ধান করা। তাদের বিষয়ে আলাদা তদন্ত চলছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও আরো কিছু নির্দেশনা ও সুপারিশ থাকবে।

অনুসন্ধান পর্যায়ে ডিআইজি মিজানের দেহরক্ষী হূদয় হাসান, গাড়িচালক  সাদ্দাম হোসেনকে ৭ জুলাই এবং তার অফিস আর্ডালি সুমনকে ২৬ জুন জিজ্ঞাসাবাদ করে সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম। অন্যদিকে এনামুল বাছিরকে গত ১০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। তবে ওই দিনই তার পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য জমা দেন। জানা যায়, লিখিত বক্তব্যে বাছির নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আরো কিছু বক্তব্য দিয়েছেন।

এদিকে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১১ জুলাই ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজকে এম ইমরুল কায়েশের দেওয়া আদেশে আগামী ১৫ জুলাই ডিআইজি মিজানুর রহমানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি প্রদান করেন। ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দুদক টিম।

আদালতে দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ ঘুষ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেন। অনুসন্ধান দলের অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

এর আগে গত ৪ জুলাই ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে ফরেনসিক রিপোর্ট দুদক কার্যালয় আসে। জানা যায় ফরেনসিক রিপোর্টটি পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার। অডিও ভয়েসের ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, এ বিষয়ে দুদক জানায়, এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের চেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে বড় করে দেখা হচ্ছে তিনি বিধি ভঙ্গ করে গোপনীয় তথ্য পাচার করেছেন।

ফরেনসিক রিপোর্টের বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট বর্তমান আইনে গ্রহণযোগ্য। দুদকও এ রিপোর্টকে ভিত্তি করে অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান জানিয়েছিলেন, এনটিএমসির প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হবে না।

এর আগেও ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির সঙ্গে দুদকের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক এনামুল বাছিরের জড়িত থাকার বিষয়টি জানিয়েছিল দুদক। অনুসন্ধানে এমন সত্যতা পাওয়ার পরই বাছিরকে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

গত ২৬ জুন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল ‘অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচালক (সাময়িক বরখাস্তকৃত) খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের সত্যতা দুদকের প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত আবশ্যক।’

গত ১ জুলাই হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে তা নাকচ করে ডিআইজি মিজানকে পুলিশে সোপর্দ করেন আদালত। ২ জুলাই আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মুখে থাকা ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিচালক এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মিডিয়ায় বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিন কোটি সাত লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদের অভিযোগে এরই মধ্যে গত ২৪ ‍জুন স্ত্রী, ভাই ও ভাগ্নেসহ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মিজানুর রহমানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই