রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

১৭ রমজান

ঐতিহাসিক বদর দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৪:১৬ পিএম

ঐতিহাসিক বদর দিবস

ঢাকা : বদরযুদ্ধ ইসলামে চিরস্মরণীয় ও গৌরবময় এক অধ্যায়। বদর নামক স্থানে রমজান মাসেই সংঘটিত হয়েছিল হক ও বাতিলের, ঈমান ও কুফরের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ। বদর মদিনার অদূরে অবস্থিত একটি কূপের নাম। এই কূপের নিকটবর্তী আঙিনাকে বদর প্রান্তর বলে অভিহিত করা হয়। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে তথা দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান এ প্রান্তরেই সংঘটিত হয়েছিল মুসলমান ও কাফেরদের মধ্যকার এ ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

যখন মক্কায় গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা মদিনার মুসলমানদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছে, তখনই ইসলামের চিরশত্রু আবু জাহেল মুসলমানদের চিরতরে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত এক হাজার সৈন্যসহ আবু সুফিয়ানের সাহায্যে মদিনার পথে রওনা হয়। মহানবী (সা.) আল্লাহপাকের প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত হয়ে সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দ্বিতীয় হিজরির ১৬ রমজান ৩১৩ জনের একটি মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে কুরাইশদের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে বদর প্রান্তের দিকে রওনা হন এবং মহানবী (সা.) কাফেলা নিয়ে বদর উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেন।

অতঃপর আরবদের চিরাচরিত প্রাচীন নিয়মানুযায়ী প্রথমে মল্লযুদ্ধ দিয়েই যুদ্ধের সূচনা হয়। তাতে কাফেরদের তিন নেতা উতবা, শায়বা ও ওয়ালিদ শোচনীয় পরাজয়বরণ করে নিহত হয়। যুদ্ধের এমন ভয়াবহতায় আবু জাহেল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তার বিশাল দলবলসহ মুসলিম মুজাহিদদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু মুসলিম বাহিনীর রণকৌশল আর যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কাফেরদের ময়দানে টিকে থাকা সম্ভব হলো না। শোচনীয় পরাজয়বরণ করতে হলো কাফের দলকে। কারণ মুসলমানদের আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সরাসরি তিন থেকে পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করা হয়। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন স্বয়ং জিব্রাইল (আ.)।

এ যুদ্ধ পৃথিবীর ইতিহাসে মহাবিপ্লব সাধন করেছে। তাই তো কোরআনে এই যুদ্ধকে ‘ইয়াওমুল ফোরকান’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বদর যুদ্ধে আবু জাহেলসহ মোট ৭০ জন কাফের নিহত ও ৭০ জন কাফের মুজাহিদদের হাতে বন্দি হয়। অন্যদিকে ১৪ জন মুসলিম মুজাহিদ বীরবিক্রমে লড়াই করে শাহাদাতের গৌরব অর্জন করেন। বন্দিদের সঙ্গে রসুল (সা.)-এর ক্ষমাসুলভ আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়ে পরবর্তী সময়ে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

বদর যুদ্ধের সফলতা হচ্ছে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি, বিশ্ব বিজয়ের সূচনা, সর্বোত্তম ইতিহাস সৃষ্টি, প্রথম সামরিক বিজয়, কুরাইশদের শক্তি খর্ব, ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন, নব যুগের সূচনা, চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারক যুদ্ধ, রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন, জিহাদের অনুপ্রেরণা, বীরত্বের খেতাব লাভ, পার্থিব শক্তির ভিত্তি স্থাপন, ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠা, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সৃষ্টি, মিথ্যার ওপর সত্যের জয়, সুরা আনফালে ঘোষিত আল্লাহতায়ালার ওয়াদা পূরণ, রসুল (সা.)-এর দোয়া কবুল হওয়া, বদর জিহাদে মুসলমানদের পক্ষে আল্লাহতায়ালার গায়েবি সাহায্যের জ্বলন্ত প্রমাণ। আর সঠিক উপায়ে ইবাদতের মাধ্যমে আমরাও মহান মাবুদের গায়েবি সাহায্য লাভ করতে পারি। এ রমজানেই হোক সেই ইবাদতের শুরু।

সোনালীনিউজ/এমটিআই