মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

কতটুকু নিরাপদ সিলেটের রেলপথ

সিলেট ব্যুরো | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:২১ পিএম

কতটুকু নিরাপদ সিলেটের রেলপথ

সিলেট : চা শিল্পের জন্য সমৃদ্ধ এবং পর্যটন নগরী খ্যাত সিলেটে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন পর্যটকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকে বাসে বা প্রাইভেটকারে যাতায়াত করলেও একটি বড় অংশ এখনো রেলপথকে বেছে নেন নিরাপদ আর আরামদায়ক যাত্রার জন্য। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সিলেটের রেলপথে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সর্বশেষ গত রোববার রাতে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া উপবন ট্রেনটি কুলাউড়ার বরমচালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সিলেটের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই রেল দুর্ঘটনায় সরকারিভাবে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রেল রুটে পারাবত, জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামে ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম পথে ভ্রমণ করেন। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য রেলপথ বেছে নেন যাত্রীরা। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে রেলপথও এখন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকবার এই রুটে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ট্রেন। যান্ত্রিক ক্রটি, বগি লাইনচ্যুত হওয়া, বগি থেকে ইঞ্জিন খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। বন্ধ হয়ে পড়ছে ট্রেন যোগাযোগ। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে সময়ের।

জানা গেছে, সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনটি নির্মাণ করা হয় ব্রিটিশ আমলে। এই সেকশনে রয়েছে শতাধিক পুরনো রেলওয়ে ব্রিজ-কালভার্ট। পাশাপাশি রেললাইন ও অধিকাংশ কাঠের স্লিপারের অবস্থা নাজুক হওয়ায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ। কোন স্থানে নষ্ট হয়ে ক্ষয়ে পড়ছে কাঠের স্লিপার, আবার কোথাও কোথাও স্লিপারের অস্তিত্বই নেই, ব্রিজ-কালভার্টের অবস্থাও নাজুক। ব্রিটিশ আমলের পুরনো লাইনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশন।

চলতি মাসের ২ তারিখ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুরে ট্রেনের বগি ও ইঞ্জিন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রশিদপুর স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে পৌঁছলে দুটি বগিসহ এর ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এমন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও টনক নড়ে না কর্তৃপক্ষের।

এই রুটে বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। মৌলভীবাজারের সাতগাঁও রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পরিকল্পনামন্ত্রী (তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী) এম এ মান্নান। এ ঘটনায় তার কিছু না হলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। রাত ১টায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে সাতগাঁও রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রমের পর ট্রেনের পোলিং রড ভেঙে ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বগিগুলো রেল সড়কের পাথরে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় রেললাইন দুমড়েমুচড়ে স্লিপারগুলো ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় ১২ ঘণ্টা সিলেটের সঙ্গে বন্ধ থাকে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। সিলেটের বিশিষ্টজনরা অচিরেই এই সেকশনের সংস্কার কাজে হাত দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue