মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭

কনসার্ট আমাকে ভীষণ টানে

বিনোদন প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার ১২:৩৬ পিএম

কনসার্ট আমাকে ভীষণ টানে

ঢাকা : ফোক-রক ঘরানার তরুণ কণ্ঠশিল্পী ফাতিমা তুয্ যাহ্‌রা ঐশী। অল্প সময়ে শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছেন। ফোক ঘরানার পাশাপাশি ভিন্ন ঘরানার গানেও প্রশংসা রয়েছে তার। যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নোয়াখালীন মাইজদীতে। ঢাকায় এসে চিকিৎসাবিজ্ঞানে লেখাপড়ার পাশাপাশি গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমনকি করোনা পরিস্থিতিতেও ব্যস্ত রয়েছেন গান নিয়ে। সম্প্রতি প্লে-ব্যাকসহ বেশ কিছু গান করেছেন।

বর্তমানে করোনাকালে নিজের ব্যস্ততা সম্পর্কে ঐশী বলেন, ‘লকডাউনের পর ধীরে ধীরে ব্যস্ততা বাড়ছে। রেকর্ডিং, টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন লাইভ প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি। বৃহস্পতিবার এনটিভিতে লাইভ করেছি।

সম্প্রতি মোবাইল কোম্পানি অপ্পো, গান বাংলা, শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু লাইভ প্রোগ্রাম করেছি। আগামীকাল নতুন একটি গানের রেকর্ডিং আছে।

ঘরে বসেই অনেক কাজ করছেন এই তারকা। বলেন, ‘বাসায় প্রয়োজনীয় সেটাপ থাকায় ঘরে বসে অনেক কাজ করা হচ্ছে। যে কাজগুলো ঘরে করা সম্ভব নয়, সেগুলোর জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে। এ জন্য খুব হিসাব করেই চলছি। করোনা যায়নি, এই ভাইরাস নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। কিন্তু ঘর থেকে বের হলে মানুষের অবস্থা দেখে তা মনে হয় না।’

করোনার এ সময়ে চার-পাঁচটি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিছেন এই তারকা। এর মধ্যে সম্প্রতি কণ্ঠ দিয়েছেন ইফতেখার চৌধুরীর ‘মুক্তি’ সিনেমার গানে। এর আগে আবুল কালাম আজাদের একটি ছবির দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এ ছাড়াও নতুন একটি সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইফতেখার চৌধুরীর ‘মুক্তি’ সিনেমার গানটি নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায়। এর আগেও ঐশী একটি সিনেমায় আঞ্চলিক ভাষায় গান গেয়েছিলেন। তবে এবার একটা মজার মিল আছে। সিনেমার গল্পটি নোয়াখালীর এক মেয়েকে নিয়ে। ঐশী নিজেও নোয়াখালীর মেয়ে। গানটিও নোয়াখালীর ভাষায়। ‘নোয়াখাইল্যা মাইয়া, গেঁড়ি কইলাম ত্যাড়া’ কথার গানটি লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ আর গানটির সুর-সংগীত করেছেন শাহরিয়ার রাফাত।

কনসার্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন ঐশী। এই তারকা বলেন, ‘এখনো সবকিছু স্বাভাবিক হয়নি। এত তাড়াতাড়ি হবেও না। আরও একটু সময় লাগবে। তাই এই সময়ে কনসার্ট করা ঠিক হবে না। আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করা দরকার। কনসার্ট আমাকে ভীষণ টানে। হাজারো দর্শকের চিৎকার-উল্লাস খুব মিস করি। কবে যে আবার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।’

ঐশীর কণ্ঠের মাদকতায় শ্রোতা-ভক্তরা যেমনি মুগ্ধতার সাগরে ভাসে, তার চাহনিতে তেমনই ব্যাকুল হয়ে ওঠে দর্শকের মন। অল্প সময়েই বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে ইতিমধ্যেই গড়ে নিয়েছেন নিজের শক্ত অবস্থান। যার নামের অর্থই ঈশ্বরীয় বা ঊর্ধ্বগামী। একের পর এক নতুন গানে ভক্ত-শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ফোক গান কিংবা আধুনিক সব গানই যেন তিনি পরম মমতা দিয়ে গেয়ে যান। অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন ২০১৬ সালের চ্যানেল আই-সিনে মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের ‘পপুলার চয়েসে’ শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পীর পুরস্কার। এ ছাড়া পেয়েছেন নানা পুরস্কার। যদিও পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে মনে রাখার মতো কিছু গান করতে চান ঐশী। শিল্পী হিসেবে তার লক্ষ্য, মানুষের মুখে মুখে যেন ফেরে তার গান।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন ঐশী। এত কিছুর পরও তিনি পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে উদার মানসিকতা এবং শিল্পের প্রতি অসীম মায়ায়। তার ইচ্ছা ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা। তাই শিল্পীজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা নিয়েও ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে।

ঐশীর গায়কি শ্রোতাদের হূদয়ে কতটুকু জয় করতে সক্ষম হয়েছে তার সাক্ষ্য বহন করছে ইউটিউব। ঐশীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তাকে ভীষণভাবে সহযোগিতা করছেন তার মা-বাবা। মা-বাবার পরামর্শ, যত্ন, মমতায় গুছিয়ে নিচ্ছেন নিজের ক্যারিয়ার। ছবি আঁকা ও আবৃত্তি করতে ভালো লাগে ঐশীর। যখন একা থাকেন নিজের মনে কবিতাটায় সুর বসান গানের মতো করে। বহুগুণে গুণান্বিতা এই কণ্ঠশিল্পীর চোখের চাহনিতে যেন অন্য এক মায়ায় পড়ে যান দর্শক-শ্রোতারা সব সময়। তার অদ্ভুত মুন্দর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে যান দর্শক। একের পর এক গান গেয়ে দর্শকের মনে গেঁথে যাক আজীবন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই