সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেন পৌর মেয়র

ঠাকুরঁগাও প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার ১২:০৭ পিএম

কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেন পৌর মেয়র

ঠাকুরঁগাও : ঠাকুরঁগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পৌর শহরের মূল কবরস্থানের জমিতে টয়লেট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে পৌর সভা মেয়রের বিরুদ্ধে। যদিও এর প্রতিবাদে নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবীতে গত ৭ অক্টোবর উপজেলার ৭টি সামাজিক সংগঠন-ষড়জ শিল্পী গোষ্ঠী, যুব সংঘ, উদীচী, শান্তিপুর ক্রীড়া সংস্থা, কেন্দ্রীয় টাউন ক্লাব, জাতীয় মানবধিকার সংস্থা, সেনা কল্যাণসহ কিছু মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

জানা যায়, শতাব্দী প্রাচীন শিবদিঘী পাঁচপীর কবরস্থান। এখানে পৌরশহরের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করার একমাত্র স্থান। এখানে সম্প্রীতি পৌরসভার অধীনে পুরনো কিছু কবর ভেঙ্গে টয়লেটের নির্মাণ করা হচ্ছে যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চরম জঘন্যতম কাজ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুকুনুল ইসলাম ডলার বলেন, জীবনের শেষ ঠিকানা কবরস্থানে টয়লেট বানানোর মত জঘণ্য কাজ আর নেই। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটি অপমানজনক একটি অধ্যায়। এ কাজ বন্ধের দাবী আমরা জানিয়েছি। যদি বন্ধ না হয় তবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলাফল কি হচ্ছে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। কিন্তু পাঁচপীর গোরস্থানে শৌচারগার নির্মাণ তদন্তের ফাইল এখনও ঘুরছে। আমরা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

সংশ্লিষ্ট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরের মহলবাড়ী মৌজার ১৩২ নং দাগের রেকর্ডকৃত জঙ্গলের ৯ একর ৯০ শতক জমির ৪ একর ৯০ শতক জমি হাসপাতালের ভিতরে রয়েছে বাকী ৫ একর জমি কবরস্থান হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ জমির উপরে শৌচারগার নির্মাণ করা হচ্ছে মর্মে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ হয়েছে। এ কারণে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার দিয়ে জমিটি মাপা হয়েছে। টয়লেটটি কবরস্থানের জমিতেই নির্মাণ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবদেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের সন্নিকটেই নির্মাণ করা হচ্ছে টয়লেটের বিশাল হাউজ (ম্যানহোল) পাশে বাথরুমের বিল্ডিং আর তার পাশেই মাটি থেকে রডের পিলার উঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টয়লেটটি কবরস্থানে নয়, খাস জমিতেই নির্মাণ হচ্ছে।

জাইকার নগর প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ নির্মাণ কাজ পৌরসভা ও জাইকার কাছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেছেন মাহিবুল এন্টারপ্রাইজ নামক এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। মেয়রের নির্দেশ মতে আমরা কাজ করছি। তবে কবরস্থানের জমিতে আমাদের প্রকল্পের স্থাপনা হচ্ছে । এ প্রকল্পের শৌচাগার নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলে জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগ হয়েছে তাও শুনেছি। মেয়র আমাদের যেখানে জায়গা দিবে আমরা সেখানেই করব। পৌর মেয়রের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, আগামী রবিবার সরেজমিনে আমি নিজে তদন্ত করব, তবে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে মেয়র মহোদয়কে নির্মাণ কাজটি বন্ধ রাখার বলা হয়েছে।

এসআইএইচ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue