শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান

কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন মন্ত্রী এমপিরা!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৪:২১ পিএম

কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন মন্ত্রী এমপিরা!

ঢাকা : চলতি বছরের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পরাজয়ে যেসব সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রী কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেসব মন্ত্রী ও এমপির তালিকা সাজিয়ে তাদের দলীয় পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দলের কেন্দ্রীয়সহ বিভাগীয়, মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের কমিটির পদ থেকে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে। তারা আগামীতে জাতীয় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক নৌকা পাবেন না বলে দলের সিদ্ধান্ত আছে। সরকারি দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

দলীয় সূত্রমতে, আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের সময় সভাপতি শেখ হাসিনা দলের শীর্ষপদে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন। সভাপতি ছাড়া দলের অন্যান্য পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা আছে। দলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে। আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে জনপ্রিয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে চমক সৃষ্টির পরিকল্পনা চলছে দলটিতে। ফলে তখনো কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেক বড় নেতা। এসবের জন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তদারকি করতে আটটি বিভাগীয় টিম গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের আগামী সম্মেলনে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও বাদ পড়তে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। সরকার ও দলের কার্যক্রম আলাদা রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সফল ও জনপ্রিয় কয়েকজন এবারের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে আগের মতো তারা সময় দিতে পারছেন না। মন্ত্রিসভার দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করলেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তাদের কারো কারো। মন্ত্রিসভার সেসব সদস্যকে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সামনের সারিতে না রাখার পরিকল্পনা চলছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। ফলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখন অনেকেই আছেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে।

সূত্র জানায়, এবারের উপজেলা নির্বাচনে দল মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে আলোচনা ও সমালোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের অন্তত ৫৫ জন সংসদ সদস্য। দলের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই দলীয় নির্দেশ না মানার অভিযোগে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এখন তারা আছেন ‘দলীয় কাঠগড়ায়’। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের তিন মাস না যেতেই তাদের এমন কাণ্ডে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে কিছু সমালোচনার শিকার হতে হয়। ‘বাড়াবাড়ি ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে তারা নৌকার প্রার্থীর পরাজয়ে নানা তৎপরতা চালান বলে তৃণমূল থেকে অভিযোগ এসেছে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে। তাদের কারণে অনেক উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতার মধ্যেও কিছু কিছু স্থানে ভোট জালিয়াতি, বাক্স ছিনতাই ও সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর জন্য ওইসব সংসদ সদস্যকে দায়ী করা হয়।

দলের তৃণমূলে কোন্দল ও বিভেদের জন্যও তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওই সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনকে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে নানা উদ্যোগ শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের পক্ষে নেওয়া হয়। তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়নের বদলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়া ও দলের মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো অবস্থাতেই যেন দলীয় কোন্দলের প্রকাশ না ঘটে, সেদিকে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই।

দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই দল সতর্ক ছিল। এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধের কারণে উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে যেন খেসারত দিতে না হয়, সেজন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। অনেক উপজেলায় সেসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। এসব নির্দেশ না মেনে যারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে তৎপরতা চালান, তাদের বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নিয়ে তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে চায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। তাই দলকে নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি সরকার থেকেও যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনা আছে। সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই পরিকল্পনাগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য। সরকারের গত ১০ বছরের সাফল্যে দলকে আরো সুসংহত ও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করতে এবারের সম্মেলনে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue