সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬

করোনায় চাপা পড়েছে ডেঙ্গু

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০, শুক্রবার ০৮:২৮ পিএম

করোনায় চাপা পড়েছে ডেঙ্গু

ঢাকা : দেশে অন্যান্য বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগী বেশি। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে চাপা পড়ে যাচ্ছে উদ্বেগের এই বিষয়টি। মশা রোধে এখনো কার্যত ব্যর্থ সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম) ডা. আয়েশা আক্তার বাংলাদেশের খবরকে জানান, চলতি বছরে (১ জানুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ) পর্যন্ত ২৬৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার ৭টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন।

বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৩ জন। অর্থাৎ এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার গুণের কাছাকাছি। বাড়তি এই সংখ্যা খুব দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বাকি তিনজন বর্তমানে দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখন পর্যন্ত এ বছরে ডেঙ্গু সন্দেহে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত কয়েক বছরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশে সাধারণত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই সময় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। তবে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সব পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল ভরা মৌসুম আসার আগেই। ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্তের এই অনুমিত সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল।

গত বছর স্থানীয়ভাবে মহামারী রূপ নেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তের বেশির ভাগ ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। দেশের ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই পরিস্থিতি এতটাই দুর্বল ছিল যে, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে বারবার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দিতে হয়েছিল। তারপরও তাদের গড়িমসিতে প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হয়।

অন্যদিকে এ বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় উদ্বেগ জনগণের মধ্যে। কারণ, দেশে মশার উপস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার একদল গবেষক নিয়ে তিন বছরের গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন এডিস মশার ওপর।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এডিস মশার লার্ভার পরিমাণ গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন বেশি। ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার উচ্চ ঘনত্ব পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. এমদাদুল হকের দাবি তারা সারা বছরই মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করার জন্য ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে ডেঙ্গুর বাহক মশা (এডিস মশা) ধ্বংসে এ বছর আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রতিবছর মহামারী রূপ নেওয়া এ ডেঙ্গু নির্মূল অভিযান অবশ্যই কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা উচিত। একই সঙ্গে জনসচেতনতা এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের অবশ্যই এটি নিশ্চিত করতে হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই