বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের দা‌য়ে আবারও কারাগা‌রে মেয়‌রপুত্র 

জেলা প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৬:০৪ পিএম

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের দা‌য়ে আবারও কারাগা‌রে মেয়‌রপুত্র 

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা সদরের একটি স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারীকে আবার কারাগা‌রে পা‌ঠি‌য়ে‌ছে আদালত। 

বৃহস্প‌দিবার (১১ জুলাই্) দুপু‌রে শরীয়তপুর আদাল‌তে হা‌জির হ‌লে তা‌কে জা‌মিন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগারে পাঠায়  জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। 

এর আগে আটদিন কারাগা‌রে থাকার পর সোমবার বিকালে তিনি জামিনে মুক্ত হন।তা‌কে জামিন দেয়ায় বুধবার শরীয়তপুর জেলা প্রশাস‌কের কার্যাল‌য়ের সাম‌নে জেলার বি‌ভিন্ন সংগঠন, এন‌জিও এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ক‌রেন। 

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন রাতে জাজিরার একটি স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়। জাজিরার মুলনা ইউনিয়নের একটি গ্রামে তাদের বাড়ি। সে পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি রোগনির্নয় কেন্দ্রে কাজ করেন। জাজিরা পৌর এলাকার আক্কেল মাহমুদ মুন্সিকান্দি মহল্লার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারী (৩১) তাদের দুঃসম্পর্কের আত্মিয়।

২৯ জুন বিকালে মাসুদ তার স্ত্রীর সাথে দেখা করার কথা বলে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলেন। ওই ছাত্রী রোগনির্নয় কেন্দ্রর কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মাসুদের বাড়িতে যায়। সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে ওই ছাত্রী ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তখন মাসুদ তাকে ঘরে আটকে রাখেন। এর পর দুদফা ধর্ষন করা হয়। 

ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে ওই ছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই ছাত্রী ওখান থেকে ছুটে পালায়। মাসুদের বাড়ির থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে ওই মহল্লার কয়েকজন মহিলা তাকে উদ্ধার করেন। তার পরিবারের সদস্যরা রাত ১০টার দিকে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। রাতেই তাকে বাড়ি নেয়া হয়। ৩০ জুন দুপুরে জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রী।

১ জুন আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুন তার জামিনের আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবি জয়নব আক্তার ইতি পরের দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিসআপিল করেন। তিনি ওই দিনই আরেক আবেদনে আসামীর জামিন প্রার্থনা করেন। জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন মঞ্জুর করে তিন দি‌নের জন্য আসামীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন।

প‌রে, তিন দিন জামি‌নে থাকার পর বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে মাসুদ ব্যাপা‌রি আদাল‌তে হা‌জির হন। প‌রে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস তা‌কে জা‌মিন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর নি‌র্দেশ দেন।

ভূক্তভোগি ওই ছাত্রী বলেন, মাসুদ আমার আত্মীয় হয়। তারপরও ধর্ষন করতে পিছপা হয়নি। আমি তার পায়ে ধরে কেঁদেছি, তারপরও রেহাই পাইনি। মাসুদ মুক্ত হওয়ার পর   চাপে ছিলাম। তা‌কে আবার কারাগা‌রে দি‌য়ে‌ছে শুনলাম। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি হি‌সে‌বে ফাঁ‌সি চাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও সরকারি কৌশলী (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, রাষ্টপক্ষ আসামিকে জামিন দেয়ার বিরোধীতা করেছে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নি। তখন আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ অসহায় হয়ে পরেছে। এভাবে গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে দ্রুত সময়ে জামিন দেয়া হলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। প‌রে বৃহস্প‌তিবার মাসুদ দায়রা ও জজ আদাল‌তে হা‌জির হ‌লে বিচারক তা‌কে জা‌মিন দেয়‌নি।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue