শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

ছুরি-বঁটির বাজারে টিকে থাকার লড়াই

কামারপাড়ায় আশায় গুড়েবালি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার ০৪:৪২ পিএম

কামারপাড়ায় আশায় গুড়েবালি

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। তাই কামারপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা

ঢাকা : ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র তিন। অথচ ভিড় ও ব্যস্ততা খুব একটা নেই কামারের দোকানে। গত কয়েক দশকে এমন দৃশ্য দেখা না গেলেও এবারই প্রথম ঈদকে সামনে রেখে কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন এ পেশার লোকজন। অথচ প্রতিবছর ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই চাপাতি ও ছুরি বানাতে ঘাম জড়াতে হয় তাঁদের। কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

কামাররা বলছেন, করোনার কারণে মার্চ থেকে বিয়ে-শাদি বন্ধ। কোরবানি দেবে এমন মানুষের সংখ্যাও এ বছর কম হবে। ফলে চরম মন্দা যাচ্ছে তাঁদের ব্যবসায়।

কামারের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির অন্যতম হলো রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কামারপট্টি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কামারের প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ছুরি, বঁটি, দা, চাপাতি, কুড়ালসহ ধারালো সব জিনিসপত্র। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায় কিছু সময় পর পর দু-একজন ক্রেতা আসছেন, কেউ দাম জেনে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ অল্প পরিসরে কোরবানির সরঞ্জাম কিনে নিচ্ছেন। একজন ক্রেতা আসতেই দোকানিরা ডাকাডাকি শুরু করে দিচ্ছেন।

কামাররা বলেন, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে সারা বছরই লোকসানে থাকতে হয়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। কোরবানির আগের মাস থেকেই আমাদের ব্যবসা চাঙ্গা হতো। কিন্তু এ বছর সেই আশায় গুড়েবালি। মাত্র কয়েকটি দা-ছুরি বিক্রি ও শাণ দেওয়ার কাজ পেয়েছি। আর কোনো কাজ নেই, ক্রেতাও নেই।

এদিকে প্রতিবছরই কোরবানির ঈদ এলে ফুটপাতে মাংস কাটাকাটির সরঞ্জাম বিক্রি ও পুরনো সরঞ্জাম শাণ দেওয়ার পসরা জমে ওঠে। তবে এবার করোনাকাল পাল্টে দিয়েছে সেই চিত্র। মাংস কাটার সরঞ্জাম বিক্রির ধরন দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে, এ বছর পশু কোরবানির সংখ্যা অনেক কম হবে।

কারওয়ান বাজারের কামারপট্টির আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত করাসহ সব ধরনের সরঞ্জাম বানিয়ে রেখেছি আমরা, কিন্তু ক্রেতা নেই। গত বছর ঈদের ১৫ দিন আগ থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছিল। এ বছর ক্রেতাদের আনাগোনা নেই। কোরবানিদাতারা পশু কেনার আগেই গোশত কাটার সরঞ্জাম কিনে নেন। আবার অনেকে আগের ব্যবহৃত সরঞ্জাম শাণ দিয়ে নেন, এবার শাণ দিতেও তেমন আসছে না। আমরা শুধু এ কোরবানি ঈদের আশায় সারা বছর এসব জিনিসপত্র তৈরি করি।’

কারওয়ান বাজার কামারপট্টির দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা পশু জবাইয়ের বড় ছুরির দাম ৯০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। মাঝারি ছুরির দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। পাগলু ছুরির দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ছিলা ছুরির দাম ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। হাড় কাটার চায়নিজ কুড়াল ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। দেশি কুড়াল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। চাপাতি ও বড় বঁটি কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। বড় বঁটি প্রতি কেজি ওজনের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে ছোট বঁটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পিস।

জানা যায়, স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামটা একটু বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। ব্যবহার করা হয় অ্যাঙ্গেল, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত ইত্যাদি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই