বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

কাল হরতালসহ যেসব কর্মসূচি দিতে পারে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৫:০১ পিএম

কাল হরতালসহ যেসব কর্মসূচি দিতে পারে বিএনপি

ঢাকা: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে আপিলের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর। ঐ দিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে চিকিৎসকদের যে প্যানেল গঠিত হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়, সেই বোর্ড স্বাস্থ্য রিপোর্ট আদালতে দাখিল করবে।

ইতিমধ্যে আদালতের আপিল বিভাগের নির্দেশনা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষর কাছে পৌঁছেছে। আগামীকাল মেডিকেল বোর্ড এই রিপোর্ট চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।

কিন্তু এটি আদালতের বিষয় নয়, খালেদা জিয়ার জামিনকে ইস্যু করে সারাদেশে একযোগে আন্দোলন এবং নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির মধ্যে এটি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি সহিংস পথেই যাচ্ছে। এমনকি হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচী নেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে যে, তারা এক ধরনের আতঙ্ক তৈরীর চেষ্টা করবে। আবার ২০১৪ সালের অবস্থানে তারা ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, ২০১৪ সালে আমরা ব্যার্থ হয়েছিলাম ঢাকায় আমরা কিছু করতে পারিনি এজন্য। সেই সময় সরকারের প্রতি জনগনের সমর্থন ছিল এটি বাস্তবতা। কিন্তু এখন সরকারের প্রতি জনগনের সমর্থন নেই। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন যে, প্রয়োজনে তারা ৩৫ লাখ লোক কারাবরণ করবে।

অর্থাৎ বিএনপি যে সহিংস পথে যাবার একটা গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোন দ্বিধা নেই। বিএনপির একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি পাড়ায়-মহল্লায় গ্রুপ বৈঠক করছে এবং সেই বৈঠকগুলোতে ঝটিকা আন্দোলন বা অকস্মিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একইসাথে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও সহিংস আন্দোলনকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই খবরকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। তিনি বলেন যে, বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার আগে আমাদের বলেছেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চাই। তিনি বলেন যে, আমি আশা করি যে, বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন, তিনি গুরুত্বর অসুস্থ।

অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ঘিরে বিএনপি বাইরে যতই আন্দোলন-সংগ্রাম বা সহিংস রাজনীতিতে ফিরে যাবার চিন্তাভাবনা করুক না কেন, আসলে বিএনপি গোপনে সরকারের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। বেগম খালেদা জিয়ার ইতিমধ্যে ৩৭ টি মামলার মধ্যে ৩৫ টি মামলায় জামিন হয়ে গেছে। এখন শুধু যে দুটি মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাঁর জামিন বাকী আছে।

এই দুটি মামলায় জামিন হলে তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হতে কোন বাঁধা নেই। ধারণা করা হচ্ছে যে, যদি সরকারের সাথে সমঝোতা চূরান্ত রূপ উপনিত হয় তাহলে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টের ভিত্তিতে আপিল বিভাগে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হতেও পারে। আর সে কারণেই বিএনপি এখন আন্দোলনের চেয়ে আদালতের দিকেই তাকিয়ে আছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সমঝোতার পথে হবে নাকি সহিংসতার পথে হবে সেই প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে।

বিএনপির একটি অংশ বিশেষ করে তারেক জিয়া খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেই সরকার বিরোধী আন্দোলন করে ২০১৪-১৫ প্রেক্ষাপটে ফিরে যেতে চায়। অন্যদিকে খালেদা পন্থীরা চাইছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিটাই হওয়া উচিত প্রধান বিষয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির পর ধাপে ধাপে আন্দোলন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

তবে সহিংসতার পথে যাবে নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে তা বোঝা যাবে ৫ ডিসেম্বর। এ দিন আপিল বিভাগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue