শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ৮ আষাঢ় ১৪২৬

‘কেউ বেঁচে নেই’

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ মে ২০১৯, বুধবার ০১:৪৩ পিএম

‘কেউ বেঁচে নেই’

সকালে ঘুম থেকে উঠে কোলগেট পেস্ট নিলাম, তার মধ্যে ক্যান্সারের উপাদান। তারপর নাস্তার জন্য পরোটা খাইলাম, তার মধ্যে অ্যামোনিয়ার তৈরি সাল্টু মিশানো। আবার কলা খাইলাম, কার্বাইড দিয়ে পাকানো। এরপর কফি নিলাম, এতে তেঁতুলের বিচির গুঁড়া মিশানো। বাজার থেকে টাটকা শাকসবজি কিনলাম, হাইব্রিড সার দিয়ে ফলানো। মশলা আর হলুদের গুঁড়া নিলাম, লেড আর ক্রোমাইট কেমিক্যাল মিশানো।

গরমের দিন বাসায় এসে তরমুজ খাইলাম, পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট দিয়ে লাল করা। আম ও লিচু বাচ্চাকে দিলাম খেতে, কার্বাইড দিয়ে পাকানো এবং ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত। দুপুরে ভাত খাব, ইউরিয়া দিয়ে সাদা করা; মুরগি নিলাম প্লেটে, ক্রমাগত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বড় করা। সয়াবিন তেলে রান্না সব, ভেতরে অর্ধেক পামঅয়েল মেশানো। খাওয়ার পর মিষ্টি জিলাপি নিলাম, পোড়া মবিল দিয়ে মচমচে করা। রোজায় ইফতারে রুহ আফজা নিলাম, তাতে কেমিক্যাল আর রং ছাড়া কোনো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি। খেজুর খাইলাম, বছরের পর বছর স্টোরেজে ফরমালিন দিয়ে রাখা। পরে সরিষার তেল মাখানো মুড়ি খাইলাম, মুড়ি ইউরিয়া দিয়ে ফুলানো আর সাদা করা এবং সরিষার তেলে ঝাঁঝালো কেমিক্যাল মিশানো।

রাতে আবার একই বিষ ডবল খাইলাম! ঘুমানোর আগেও বাদ যাবে না। গরম দুধ আর হরলিক্স খাইলাম, গাভীর পিটুইটারি গ্রন্থিতে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত দুধ দোয়ানো হয়, এরপর ইউরিয়া মেরে সাদা করা হয়। আর হরলিক্স পরীক্ষা করে কেমিক্যাল ছাড়া কোনো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি। এত ভেজাল  খেয়ে দু-একটা ওষুধ না খেলে তো শরীর টিকবে না। ৭০ ভাগ ওষুধ কোম্পানি দেশে  মানসম্মত ওষুধ তৈরি করে না। এইসব খাওয়ার পর ভাবতেছি, কেমনে বেঁচে আছি! মানুষের ঈমান তো নাই-ই, দুর্নীতির ভেতরেও এরা দুর্নীতি করে। আসলে আমরা কেউই বেঁচে নাই, মৃত আত্মারা ঘোরাফেরা করে এই নষ্ট শহরে!

লেখক- রাশেদুল করিম।


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।