বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬

বিআরটিসি

কেনাকাটায় নয়ছয়

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার ১২:৪৬ এএম

কেনাকাটায় নয়ছয়

ঢাকা : দুর্নীতি ও অনিয়মে বারবার প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম বন্ধ করা যায়নি।

এবার খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও বিআরটিসির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম গতকাল বলেন, বিআরটিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। আমাদের তদারক কার্যক্রম সবসময় রয়েছে। সুশাসন প্রশ্নে অনেক অগ্রগতি দৃশ্যমান।

তিনি আরো বলেন, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিআরটিসির অনিয়ম ও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা জোরদার করতে বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। তবে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

বিআরটিসির ডিপোগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। গাড়ি থেকে যন্ত্রাংশ পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়। এছাড়া ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ তছরুপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের অধীন বর্তমানে চলমান বাসের মোট সংখ্যা এক হাজার ৮৩০টি। রেজিস্ট্রেশন ও ইনস্পেকশনের অপেক্ষায় নতুন বাস ৩২৫টি। হালকা ও ভারী মেরামতের অপেক্ষায় ৭৫টি বাস রয়েছে।

জানা গেছে, ভারতীয় ঋণে (এলওসি) দেশটি থেকে বিআরটিসির জন্য কেনা বাসে ত্রুটি দেখা গেছে। কেনার দুই মাস যেতে না যেতেই  ভারতীয় কোম্পানি টাটার বাসে ত্রুটি বেরিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানহীন বাস এসেছে। বাসের বডিতে যে মানে তৈরি করার কথা সেটি করা হয়নি। বাস দেশে আনার আগে কয়েক দফায় পরিদর্শন করেন বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিআরটিসি যে মানের (স্পেসিফিকেশন) বাস চেয়েছিল, সেই মানের বাস দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখতেই পরিদর্শন। পরিদর্শনে সমস্যা ধরা পড়েছিল। কিন্তু সমস্যা জেনেও বাসগুলো আনা হয়।

ভারত থেকে কেনা বাসগুলোর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে দুই দশক অর্থাৎ ২০ বছর। কিন্তু এর আগেই সবগুলো বাস লক্কড়ঝক্কড় হয়ে যাচ্ছে।

সূত্রমতে, বিআরটিসির জন্য গত এক দশকে কেনা সব বাস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত এ পরিবহন করপোরেশনের জন্য ১২২ কোটি টাকায় ২৭৯টি বাস কেনা হয়। যার অর্ধেকের বেশিই অচল হয়ে গেছে।

২০১৩ সালে ২৮২ কোটি টাকায় আনা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানির ২৫৫টি বাস। প্রতিটি বাসের দাম পড়ে কোটি টাকার বেশি। ৮০টি বাস নষ্ট হয়ে পড়েছে। এগুলো মেরামত অযোগ্য। ২০১৩ সালে ভারত থেকে কেনা আর্টিকুলেটেড বাসের ৩৩টি বিকল হয়ে গেছে।

সংসদীয় কমিটি ডিপোর চাহিদা অনুযায়ী ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে টায়ার ও ব্যাটারি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস্ (পিপিআর) অনুযায়ী ক্রয় করে ডিপোতে সরবরাহ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির সব ডিপোতে অটোমেশন সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩টি ডিপোতে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন চালু করা হয়েছে। আগামী ৬ বছরের মধ্যে বাকি ডিপো ও ইউনিটসমূহে অটোমেশন সিস্টেম চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

গত বুধবার সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদীয় কমিটি স্বচ্ছতা বজায় রেখে বিআরটিসির বিভিন্ন পরিবহন ক্রয়ের সুপারিশ করে। সাউথ এশিয়ান সাব রিজিয়নাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-১ এবং সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর সার্বিক কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়।

জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ অধীন সংস্থাগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন।

তিনি বিআরটিসি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সংস্থা পরিদর্শন করছেন। দায়িত্বশীলদের সতর্ক করছেন। তবে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মন্ত্রী ও সরকারের সুশাসন নীতিকে তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগতভাবে এসব দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই