মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

কে হচ্ছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২০, বুধবার ০৯:৪২ পিএম

কে হচ্ছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র

ঢাকা : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। জোটের ঐক্য ধরে রাখা এবং দেশব্যাপী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তার প্রয়াণে এখন জোটের ভিতরে-বাইরে আলোচনা উঠেছে কে হচ্ছেন নতুন মুখপাত্র।

এ মুখপাত্র কি জোটপ্রধান আওয়ামী লীগ থেকে হবে, নাকি শরিক দলের কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে? এসব নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত নেবেন জোটপ্রধান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাসীন জোটের মুখপাত্র হওয়ার আলোচনায় অর্ধডজন নেতার নাম আছে। আওয়ামী লীগ ও জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান,  এ পদে আসতে অর্ধডজন নাম আলোচনায় আছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমের নাম জোর আলোচনায় আছে।

তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নাসিমের সঙ্গে ১৪ দলকে দেখভাল করে আসছেন। এছাড়াও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকায় ঢাকাকেন্দ্রিক তার রাজনৈতিক প্রভাব আছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কথাও বলছেন কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগের বাইরে জোট শরিকদের মধ্যে কাউকে মুখপাত্র করা হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ১৪-দলীয় জোটপ্রধান নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

আওয়ামী লীগ ও জোট শরিকদের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ নাসিম ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্র হিসেবে যেমন জোটকে শক্তিশালী করেছেন, সারা দেশ ছুটে বেরিয়েছেন, তেমন একজন নেতাকেই এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ থেকে জোটের মুখপাত্র করা হলে অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে জোটের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারটি সামনে চলে এসেছে। জোটের শরিকদের গত দুই মেয়াদে মন্ত্রিসভায় রাখা হলেও এবার কাউকে রাখা হয়নি।

আগামীতে আওয়ামী লীগের সামনে এমন সুসময় থাকবে-এটা বলাও মুশকিল। ফলে জোটকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে রাজপথে বিরোধী দলকে মোকাবিলা করা কতটা ঐক্যবদ্ধ করা যাবে, সে সব চিন্তা করা হচ্ছে।

২৩ দফা ঘোষণা সামনে রেখে বাম প্রগতিশীল জোট ১১ দল, আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪ দল গঠিত হয়। জোট গঠনের পর থেকে প্রবীণ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলকে দেখভাল করতেন। ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (একাংশ) এ আটটি দল তৎকালীন ১১ দলে থেকে যায়।

এরপর গণফোরাম জোট থেকে বেরিয়ে যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরিকত ফেডারেশনকে জোটে নেওয়া হয়। দুই বছর আগে জাসদ ভেঙে দুটি আলাদা জাসদ গঠিত হয়। দুই জাসদই বর্তমানে ১৪ দলে রয়েছে।

জোট গঠনের শুরু থেকেই তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে জোটের শরিকরা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করে তারা। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ দলকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়।

২০০৯ সাল থেকে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী থাকলেও মূলত মোহাম্মদ নাসিমই ১৪ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। করোনা আক্রান্ত ও পরে ব্রেইন স্ট্রোক করে গত শনিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই