শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

কোরবানির হাটে কত জাতের গরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১২:০৬ পিএম

কোরবানির হাটে কত জাতের গরু

ঢাকা: একটি জাতের শরীরজুড়ে লালের প্রভাব। লেজ, শিং এমনকি পায়ের খুরও লালচে। অন্যটি সম্পূর্ণ বিপরীত। গোটা শরীরের সঙ্গে পায়ের খুর, শিং, চোখের পাপড়ি, নাকের সামনের অংশ ও লেজের পশম—সবই সাদা। 

প্রথমটি চট্টগ্রামের স্থানীয় জাত লাল গরু বা রেড চিটাগাং ক্যাটেল (আরসিসি)। পরেরটি মীরকাদিমের ঐতিহ্যবাহী ‘ধবল গাই’। 

তবে বাংলাদেশে গরুর স্থানীয় এই দুটি জাতের মধ্যে মিলের জায়গাটি হচ্ছে দুই প্রজাতির মাংসই অত্যন্ত সুস্বাদু ও নরম। আর কোরবানিতে দেশের দুটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে এই দুই জাতের গরুর বিশেষ চাহিদা আছে।

প্রতিবছর কোরবানিতে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা লাল গরু কোরবানি দেওয়াকে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন। একইভাবে পুরান ঢাকার অনেক বাসিন্দা এখনো মনে করেন, মীরকাদিমের গরু ছাড়া তাঁদের কোরবানি পূর্ণতা পায় না।

তবে চাহিদা থাকলেও সরবরাহের ঘাটতি বাড়ছে দিনকে দিন। তাই বাজারে অন্যান্য জাতের গরুর চেয়ে এই দুটি জাতের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি।

লাল গরু স্থানীয়ভাবে ‘চাঁটগাইয়া লাল গরু’ বা ‘সুন্দরী’ নামে পরিচিত। আর এই জাতের ষাঁড়কে বলা হয় ‘লাল বিরিষ’। চট্টগ্রামের সব অঞ্চলেই এই জাতের গরু কমবেশি দেখা যায়। তবে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায় সাতকানিয়া, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও রাউজান উপজেলায়। বাণিজ্যিক উৎপাদন খুবই কম। বেশির ভাগ গরু পালিত হয় গৃহস্থ পরিবারগুলোতে।

স্থানীয় কৃষক ও প্রাণিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর চট্টগ্রামে ছয় লাখের মতো গরু কোরবানি দেওয়া হয়। একসময় এর এক-তৃতীয়াংশই থাকত লাল গরু। স্বাভাবিক নিয়মে একটি গরু দুই-আড়াই বছরের ব্যবধানে প্রজনন করলেও লাল গরু প্রায় প্রতিবছরই বাচ্চা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য গরুর চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা বেশি। তবে অতিমাত্রায় সংকরায়ণের কারণে দেশীয় এই জাত এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে। হাইব্রিড জাতের গরুর তুলনায় মাংস ও দুধের পরিমাণ কম হওয়ায় এর প্রতি খামারিদের আগ্রহও দিন দিন কমেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া লাল গরু নিয়ে গবেষণা করছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে। লাল গরুর বিশেষত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমত এই জাতের গরু দেখতে সুন্দর। গাভির দুধ অত্যধিক ঘন। আর ষাঁড়ের মাংস খুবই সুস্বাদু ও নরম। পৃথিবীতে এমন আর কোনো গরুর জাত পাওয়া যাবে না, একই সঙ্গে যার দুধ ও মাংস ভালো।

ফজলুল হক ভুঁইয়ার হিসাবে বর্তমানে গোটা চট্টগ্রাম এলাকায় বিশুদ্ধ লাল জাতের গরুর সংখ্যা আট হাজারের বেশি হবে না। এ ছাড়া ময়মনসিংহে সরকারি উদ্যোগে তিন শর মতো এবং সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আড়াই শ লাল গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশি জাতের এই গরুর ওজন ৩ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত হয়। প্রতিটি গরু থেকে ৩ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। মাংস ও দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি চাষাবাদের জন্যও এই জাত বেশ উপযুক্ত।

চট্টগ্রামে কোরবানির বাজারে এবার মাঝারি আকারের একটা লাল গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার সাদিক অ্যাগ্রো নামের একটা খামারে বিক্রির জন্য ১০টার মতো লাল গরু রাখা হয়েছে। খামারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, দুটি গরু এর মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। একটার দাম নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, অন্যটি ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue