শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে থেকে বাঁচতে ব্যস্ত সম্রাট-মমিনুলরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার ১০:১০ পিএম

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে থেকে বাঁচতে ব্যস্ত সম্রাট-মমিনুলরা

ঢাকা: বাঁচাও হকি'র স্লোগান নিয়ে যিনি হয়েছিলো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। প্রত্যাশা ছিল মেলেনি প্রাপ্তি। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সেই মমিনুল হক সাঈদই আজ নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। ফলে দিনে দিনে গভীর থেকে আরো গভীরতর সংকটে দেশের হকি। যদিও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি বলছেন, সবকিছু চলছে পূর্বের সূচি মেনে।

সাবেকদের মতে, সাধারণ সম্পাদক ইস্যুতে যে কালিমা লেপন হয়েছে দেশের হকিতে। তা ঘুঁচবে না সহসাই। রাজনীতি থেকে খেলার মাঠ। সবকিছু যেন টালমাটাল এক ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে। সবচাইতে বেশি ঝড়টা যাচ্ছে হকি ফেডারেশনের ওপর দিয়ে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির যে কয়েকজন হোতা, তাদের একজন আরামবাগের ওয়ার্ড কমিশনার ও হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ। অনেকের মতে, বর্তমানে যিনি সিঙ্গাপুরে গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই শীতনিদ্রায় দেশের হকি।

গেল এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়ার পর সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন সেপ্টেম্বর অক্টোবরেই হবে প্রিমিয়ার লিগ। জাতীয় দলকে খেলানো হবে প্রীতি ম্যাচও। তবে আদতে বয়স ভিত্তিক পর্যায়েই আটকে আছে দেশের হকি। সাবেকরা বলছে এমনিতেই দেশের হকি নিয়ে অনীহা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানদের। তার ওপর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ। এ থেকে উত্তরণের জন্য যত দ্রুত সম্ভব মাঠে খেলা ফেরানোর তাগিদ তাদের। সঙ্গে অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে আহ্বান, ঢেলে সাজানো হক বাহফে'কে।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক এহসান রানা বলেন, যিনি এটার সাথে জড়িত তিনি হয়তো হকি ফেডারেশনের সেক্রেটারি। উনি ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছুর সাথে জড়িত থাকতে পারে। আমার মনে হয় গুছিয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রোগ্রাম করতে পারেনি হকি ফেডারেশন। বিশেষ করে জাতীয় দলে কোন প্রোগ্রাম তারা দিতে পারেনি। 
সরেজমিনে ফেডারেশনে গিয়ে দেখা গেলো ওমান যুব দলের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ নিয়েই ব্যস্ত সবাই। প্রিমিয়ার লিগ কবে হবে জানেনা কেউই। জানেনা দেশের হকির ভবিষ্যত-ই-বা কি!

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ সভাপতি আব্দুর রশিদ শিকদার বলেন, সে একজন ভালো ব্যবস্থাপক, এটার বাইরে সে কিছু করলে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। সেটা তদন্তের ব্যাপার। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। আমারা দ্রুততম সময়ে কার্যকর গ্রহণ করবো।  তাইতো প্রশ্ন থেকে যায়! শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগ মাথায় নিয়ে ফেডারেশন থেকে কি পদত্যাগ করবেন মমিনুল হক সাঈদ! নাকি তার পদ স্থগিত করবে এনএনসি। এসব উত্তর জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে। 


অন্যদিকে, ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের খোঁজ মিলছে না কোথাও। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তাও মুখ খুলছেন না। তবে ধৈর্য ধরতে বলেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

সম্রাট এখন কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম বলব না। শুধু বলতে চাই আপনারা ধৈর্য ধরলেই দেখতে পাবেন। এর বাইরে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।

সম্রাট প্রসঙ্গে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওয়েট করেন, এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন।

গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন সম্রাট গ্রেপ্তার হয়েছে কি না তা শিগগিরই জানা যাবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, আপনারা দেখবেন, খুব শিগগিরই দেখবেন।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে শুরু হয় র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত বেশ কয়েকজন আইনের আওতায় এলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। অভিযানের প্রথম দিন নেতাকর্মীদের নিয়ে কাকরাইলের অফিসে অবস্থান নিলেও এরপর থেকে লাপাত্তা তিনি।

বাসা, অফিস কোথাও খোঁজ নেই তার। সম্রাট যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সম্রাট ও তার পরিবারের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও পাওয়া যাচ্ছে না সম্রাটের সঠিক তথ্য।

র‌্যাব বলছে, একটি পক্ষ সম্রাটকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে অভিযানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাদের শনাক্তে কাজ চলছে।

র‍্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গুজব তৈরি হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ধরনের গুজব সৃষ্টিকারী যারা আছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে একজন ব্যক্তি মুখ্য নয়। যারাই জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, যদি কারো নাম এখানে থাকে তাহলে সবাইকে ধরা হবে— সে রকম নির্দেশ আমাদের দেওয়া আছে। অভিযান শিথিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে র্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতিহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার কথা বলেছেন। চলমান দুর্নীতি বিরোধী বা শুদ্ধি অভিযান অনেক বড় একটি বিষয়। এই অভিযানের সঙ্গে শুধু র‍্যাব ফোর্সেস জড়িত না। আর এই অভিযানে র‍্যাব লিড এজেন্সি নয়।

আমরা সহযোগী প্রতিষ্ঠান, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারের নির্দেশে কাজ করছি। সামগ্রিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কিন্তু অনেক এজেন্সি জড়িত। সেক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, চলমান অভিযানে র‌্যাব লিড এজেন্সি নয়।

সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্যাসিনোর জন্য পুলিশ একা দায়ী নয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে র‍্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার ওপর দায় পড়ে।

এ বিষয়ে র‍্যাব ডিজির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে আমি জানি না উনি বলেছেন কি না। উনি একজন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা, উনার এই ধরনের মন্তব্য করার কথা না আমি যতটুক জানি। আমি ধারণা করব যে, উনি এ ধরনের মন্তব্য করেন নাই। তাই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমরা সাতটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সর্বশেষ ম্যান্ডেট হচ্ছে সরকার যখন যা নির্দেশ দেবে তাই করব।

সুতরাং সরকারের নির্দেশিত না হলে, সাধারণত আমরা ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে কাজ করি না।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue