শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

খালেদার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার ০২:০২ পিএম

খালেদার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা

ঢাকা : বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে ‘কঠোর’ থেকে ফের বেশ আন্তরিক অবস্থানে সরকার। তার প্যারোলের বিষয়ে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে সরকার ও বিএনপির মধ্যে গোপন সমঝোতার লক্ষ্যে কয়েকবার বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্যারোলের জন্য আবেদন করেনি।

সরকারও একপর্যায়ে ‘কঠোর’ অবস্থান নেওয়ায় থেমে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার প্যারোলের বিষয়ে আলোচনা ও সরকারের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমঝোতার কার্যক্রম।

প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের সুবিধাজনক সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়।

সূত্রমতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন— চলতি বছরের মার্চ থেকে রাজনীতিতে এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে গোপন সমঝোতার চেষ্টা করে আসছিল বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

কিন্তু বাদ সাধে বিএনপির ঢাকা আর লন্ডনের দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত। তবে রাজনৈতিক এ সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপিও এখন প্যারোলের বিষয়ে অনেকটা নমনীয়। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্ত করতে ‘সফল’ না হওয়ায় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে হলেও

দলটির নীতিনির্ধারকরা দলীয় প্রধানকে দ্রুত কারামুক্ত করার পক্ষে বলে দাবি সূত্রের।

মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১ মে সরকারি সফরে যুক্তরাজ্য গেলে সেখানে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। ফলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তখন সরকারও খালেদার প্যারোলের বিষয়ে কিছুটা কঠোর হয়।

গত জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার যুক্তরাজ্য সফরে গেলে মা খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য তারেক রহমান অন্যবারের মতো বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্দেশ দেননি। এতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোলের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা আরো বাড়ে।’

সূত্র জানায়, বিএনপি প্রধানের প্যারোলের বিষয়ে চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতা। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক উপদেষ্টা।

রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বাইরে আসছেন— আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে দুই দলের অনেক নেতাকর্মী এমনটা ধরে নেন। তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় এ বিষয়ে আগের নমনীয় অবস্থান থেকেও একপর্যায়ে সরে আসে সরকার।

দলীয় সূত্র জানায়, সরকার আন্তরিক হলেও বিএনপি প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন না করায় আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে, খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বিএনপিই ‘রুদ্ধ’ করে রেখেছে।

‘নেতিবাচক রাজনীতি বাদ দিয়ে’ বিএনপিই সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে পারছে না। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে বক্তব্য ও বিবৃতিতে দলের চেয়ারপারসনের জামিন বা মুক্তির দাবি জানালেও আদৌ কেউ কেউ মুক্তি চান কি না— এমন প্রশ্নও তোলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, বিএনপি মহাসচিবের শপথ না নেওয়া, বগুড়া-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করতে আগ্রহী ছিলেন বিএনপির শীর্ষ কয়েক নেতা। খালেদা জিয়া রাজি হলে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারেন, এ কৌশল সামনে রেখে বিএনপির নেতারা এমন পরিকল্পনা করেন। খালেদা জিয়ার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলার আগেই বিএনপির দুজন সংসদ সদস্য ও কয়েক নেতা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন।

সরকারি দলের নীতিনির্ধারকরা ওই বৈঠকে বিএনপির নেতাদের জানান, খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারের বাইরে এসে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারলে তাতে আওয়ামী লীগের বাধা দেওয়ার কিছু নেই। দলীয় চেয়ারপারসনকে সংসদে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা বিএনপি বাস্তবায়ন করতে চাইলে আওয়ামী লীগের তাতে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই বলেও জানায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় বগুড়ার ওই আসনের উপনির্বাচনে তাকে দল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি।

দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে ১৮ মাস ধরে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। তাকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও প্রতীকী অনশন, অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শীর্ষ নেতাদের সদিচ্ছার অভাবে ১৮ মাসেও দলটি জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বলে অভিযোগ আছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই