বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

খালেদার মুক্তির আন্দোলনে যোগ্য নেতৃত্ব চায় ২০ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:৩৭ পিএম

খালেদার মুক্তির আন্দোলনে যোগ্য নেতৃত্ব চায় ২০ দল

ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক জোট হতে শুরু করেছে ২০ দলীয় জোট। যোগ্য নেতৃত্ব ঠিক করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় শরিক নেতারা। তবে এই বিষয়ে বিএনপিকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ২০ দলের শরিকরা।

বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০ দলীয় জোটের গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি।

বিএনপি ও ২০ দলের একজন সঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন বলে আলোচনায় গুরুত্বারোপ করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশ দেয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, আমি সেই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত। বসে থাকলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করব- হয় আপনারা নেতৃত্ব দেন, না হলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন।

তিনি আরও বলেন, এলডিপিকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আপনারা নতুনভাবে এটার নামকরণ করেন। আমার নেতৃত্বে আসতে হবে এটাও না। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারেন তার নেতৃত্বেও আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে জাতির কাছে, যিনি জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেন নাই, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে কারও সঙ্গে আপস করবেন না, দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবে না- এমন ব্যক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

অলি আহমদ বলেন, বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ, সবাই এক জায়গায় একত্রিত হোন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করেন। না হলে আপনাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের বলেন, আমরা সেটা করতে রাজি আছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে পারি নাই, এবার স্বৈরশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। বিএনপির যারা আছেন আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কারা কারা আসবেন আমাদের সঙ্গে আসেন।

এছাড়া বিএনপি সংসদে শপথ নিয়ে সরকারের বৈধতা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন এলডিপি সভাপতি। তিনি বলেন, আজকে এখানে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের অনেকেই আছেন। আপনাদের অনুরোধ করব অন্যদিকে তাকানোর সুযোগ নেই। আপনারা এখানে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আসলে আপনাদের এটার মূল স্পিরিটটা দেখতে হবে। বিএনপি সংসদে গিয়েছে-এটাই হলো বাস্তবতা। বিএনপি এই সরকারকে বৈধতা দিয়েছে, এটাই হলো বাস্তবতা।

এ সময় মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলেন এলডিপি সভাপতি। তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে হলো এইটা না যে আড়াই বছর পরে হবে। এটা কালকেও হতে পারে, পরশুদিনও হতে পারে।

আগামী নির্বাচন আর এই সরকারের অধীনে হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কে বলেছে আগামী নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে হবে। এই সরকারের অধীনে তো আমরা নির্বাচন করে দেখলাম, এরা তো দিনের বেলায়ও কখনো নির্বাচন করে না। কারণ তারা দিনের বেলায় আলোতে ভয় পায়, তাই রাতের অন্ধকারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এরা নিশাচর, তাই আমাদেরও মশাল হাতে নিয়ে বের হতে হবে। নিশাচরদের তালাশ করে বের করতে হবে।

আলোচনায় ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ যেটা মিডিয়ায় এসেছে তাতে প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়া আদালতের কাছে আটকে যায়নি। তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি মূলত ফ্যাসিবাদের জিঞ্জিরায় আবদ্ধ হয়ে আছেন।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলন একই সংগ্রাম বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। গোলাম পারোয়ার বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বলি আর ২০ দল বলি আমাদের সবাইকেই কৌশলের বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে। জনগণের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করি তাদের সেন্টিমেন্ট যদি আমরা না বুঝি সেটাকে মানুষ কোনোভাবেই কৌশল হিসেবে নেয় না।

গোলটেবিল আলোচনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০ দলের অন্যতম শরিক দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তারা যদি সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে তাদেরকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, আজ তাদের পিতারা যে ভুল করেছেন তার জন্য বর্তমানে যারা আছে তাদেরকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে। কারণ তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।

জাফরুল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মহাভুল করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর তিনি যখন গ্রেফতার হন তখন সেনানিবাসে আবদ্ধ ছিলেন। ধানমণ্ডির বাড়িতে দুজনেই একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু আজ একজন বন্দি আর একজন বাইরে। আপনি যদি আত্মরক্ষা করতে চান তাহলে আর দেরি না করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রসঙ্গ আবার তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে হওয়াটা ঐক্যফ্রন্টের একটা ব্যর্থতা বলতে পারেন। আর কোনো সুযোগ নাই। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, নিলুফার চৌধুরী মনি, প্রমুখ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue