বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

খালেদা জিয়ার কেবিনে যাবে কোরবানির মাংস, না খেলে ব্যবস্থা

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৯, সোমবার ০৬:২০ পিএম

খালেদা জিয়ার কেবিনে যাবে কোরবানির মাংস, না খেলে ব্যবস্থা

ঢাকা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিনে দ্বিতীয়বারের মতো ঈদ করছেন পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। যদিও বন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়ার এটি ষষ্ঠ ঈদ।

একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত (বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত) বন্দি হিসেবে ঈদের দিন হাসপাতালে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়ার বিএসএমএমইউর ৬২১ নম্বর কেবিনে যায় পায়েস, সেমাই আর মুড়ি। এসব তৈরি করেন কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষীরা। তবে অন্যান্যদের মতো নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কম চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এ খাবার। মানা হয় তার ডায়েট চার্ট।

সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে খালেদার কেবিনে পৌঁছে যাবে দুপুরের খাবার। ভাত অথবা পোলাওয়ের যেকোনো একটির সঙ্গে (ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে) পাবেন ডিম, রুই মাছ, মাংস আর আলুর দম। খালেদা জিয়ার দাঁতে সমস্যা থাকায় তার মাংস অপেক্ষাকৃত নরম হবে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন দুপুরে খালেদার সঙ্গে দেখা করার জন্য ইতোমধ্যে তার ভাইসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন। তারা খালেদা জিয়ার জন্য খাবার আনতে পারবেন। খালেদা যদি কারা কর্তৃপক্ষের খাবার না খেতে চান তাহলে তার পরিবারের সদস্যদের আনা খাবার খেতে পারবেন। তবে তিনি খাবার গ্রহণ করার আগে সেই খাবার পরীক্ষা করে খাওয়ার অনুমতি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ।

সন্ধ্যার পরপর খালেদার জন্য থাকছে পোলাও (নরম)। সঙ্গে পরিমাণ মতো কোরবানির গরু অথবা খাসির মাংস, একটি ডিম, ডায়াবেটিক মিষ্টি, পান-সুপারি এবং কোমল পানীয়।

কারা সূত্র জানায়, এসব খাবার ছাড়াও একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে খালেদা জিয়া অন্য কোনো খাবার খেতে চাইলে তা কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন। তবে তাকে সেই খাবার দিতে বাধ্য নয় কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্র জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ কোনো আইটেম তৈরির আবেদন করেননি খালেদা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম মিলন  বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী খাবার দেয়া হবে। ঈদের দিন তার পরিবারের সদস্যরা তার জন্য খাবার আনবেন। তিনি চাইলে সে খাবার খেতে পারবেন। তবে খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে খেতে দেয়া হবে।’

গত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা ঘোষণার দিন থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ছিলেন তিনি। সেখানে একটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করেন। তবে গত ২৫ মার্চ আর্থাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধীর কারণে তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে রয়েছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে আনা হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ১ মাস ২ দিন পর তাকে ৮ নভেম্বর আবারও কারাগারে নেয়া হয়। সর্বশেষ মার্চে তাকে তৃতীয় দফা এখানে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে কারাবন্দি খালেদার এটি দ্বিতীয় ঈদ।

খালেদাকে কারাগারে দেয়ার প্রথম থেকেই আদালতের অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে থাকছেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছেন। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই সেলে থাকার পর এবার একই কেবিনে থাকছেন ফাতেমা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদার পাশাপাশি একই খাবার পাবেন তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। ফাতেমার পরিবারের লোকজনও তার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যেতে পারবেন।

খালেদা জিয়ার কারাবাস এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর তিনি মোট চারবার গ্রেফতার হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। তবে তখন তাকে বেশি দিন বন্দি থাকতে হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে ৩৭২ দিন ছিলেন তিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue