বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খালেদা জিয়ার মুক্তি, তাৎক্ষণিক যা বললেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার ০৪:৫০ পিএম

খালেদা জিয়ার মুক্তি, তাৎক্ষণিক যা বললেন মির্জা ফখরুল

ফাইল ছবি

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির পুরো বিষয়টি জানার পর প্রতিক্রিয়া দেবেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৪টায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরই মোবাইল ফোনে এ তথ্য জানা মির্জা ফখরুল।

এ সময় তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, উনি (আইনমন্ত্রী) কী বলেছেন? মুক্তির পর বেগম খালেদা জিয়াকে কোথায় রাখা হবে?’ মির্জা ফখরুলকে জানানো হয়, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০১ ধারায় দণ্ড মওকু করে ছয় মাসের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে। উনাকে বাসায় থাকতে হবে। কোথাও যেতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।

এরপর আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্য হুবহু শোনার পর মির্জা ফখরুল বলেন, তাহলে তো উনাকে (খালেদা জিয়াকে) হাউজ অ্যারেস্ট করা হবে। যেভাবেই হোক তার চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া দরকার। আপাতত এটুকুই বলা ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না। পুরো আদেশটা জানার পর প্রতিক্রিয়া দেবো।

এর আগে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এ সময় তিনি জানান, বয়স বিবেচনায় সদয় হয়ে সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৬ ধারায় তার সাজা ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শর্ত সাপেক্ষে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, দুই শর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিদেশ না যাওয়ার শর্তে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারার ১ উপধারা মতে ৬ মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি বিষয়ে মতামত দিয়েছি। মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে মুক্তির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, মানবিক কারণে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসময় তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। দেশের বাইরে গমন করতে পারবেন না। আর আজকের পরিপ্রেক্ষিতে (কোভিড-১৯ পরিস্থিতি) কাউকে বিদেশে যেতে বলা মানে তাকে সুইসাইড (আত্মহনন) করতে বলা।

বাসায় অসুস্থ হলে তিনি কীভাবে চিকিৎসা নেবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার যদি দরকার হয় তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্মত হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আছেনই। সেখানে তার চিকিৎসা চলছেই। আর ভবিষ্যতে এ বিষয়টি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত কখন থেকে কার্যকর হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তি দেবে তখন থেকে। বিশ্বজুড়ে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাসে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সেজন্য ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার ‍মুক্তির দাবি করে আসছে বিএনপি।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue