সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার ০৩:১২ পিএম

খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ছবি : সোনালীনিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শীত মানেই ভাপা পিঠা আর খেজুরের রস। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধু বৃক্ষ এই খেজুর গাছ। এ যেন বাঙালির ঐতিহ্য। আর তাই শীতের শুরু থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। ফলে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের গাছিরা। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনে কিছুটা গরম আর বিকেল থেকে রাত ও সকালে কুয়াশা আর ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে সেই নভেম্বর মাস থেকে। এখনো শীতের তীব্রতা তেমন না হলেও এরই মধ্যে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন রাজশাহী অঞ্চলের গাছিরা। যেহেতু গ্রামীণ জনপদের নবান্ন উৎসবের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের রস আর গুড়। তাই শীতের শুরু থেকেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হন গাছিরা। শীতের সকালে নানাভাবে খাওয়া হয় এই রস।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, রহনপুর, শিবগঞ্জ, কানসাটসহ বরেন্দ্র এলাকাগুলোতে খেজুর গাছে গাছিরা রস সংগ্রহের জন্য নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি। খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার ও গাছের উপরিভাগে ধারালো হাসুয়া দিয়ে ছিলে রাখেন তারা রস সংগ্রহের জন্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শেষ প্রান্তে দেখা মিলে সারি সারি খেজুরের গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এ গ্রামেই দেখা মেলে গাছিয়াল খানের সঙ্গে। তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কাঁচা ও পাকা সড়ক পথ, রেল লাইনের দুই ধার, জমির আইল, বাড়ির আঙ্গিনাসহ বিভিন্ন পতিত জায়গায় ছড়িয়ে আছে কয়েক লাখ খেজুর গাছ। শীতের প্রথমে আমরা খেজুর গাছ ছিলে ও পরিষ্কার করেছি। আর ছিলার ১০ থেকে ১৫ দিন পর সে ছিলাস্থান থেকে রস সংগ্রহের জন্য মাটির পাত্র বেঁধে রাখি যেখানে জমা হয় সুমিষ্টি রস।

খান আরো জানান, তার মতো ওই এলাকায় আরও বেশ কিছু পরিবার শীতের সময়ে খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিক্রি করি। আর সিজিনাল এই ব্যবসা করে ভালই রোজগার হয় তাদের। তবে গাছিয়াল মতিউরের কণ্ঠে ভেসে ওঠে সুর হারানোর বেদনা।

তিনি জানান, প্রতিবছর শীতের কয়েকটি মাস খুব পরিশ্রম করতে হয় আমাদের। খুব ব্যস্ত সময় পার করছি খেজুর গাছের পেছনে। কিন্তু শীতের মাস শেষ হতে চললেও গাছে খুব বেশি রস হচ্ছে না। তবুও নিজেদের সংসার বাঁচাতে ও শহরের বাসিন্দাদের খেজুর রস ও খেজুর গুড়ের চাহিদা মেটাতে গাছের রস সংগ্রহ করতে যেতে হচ্ছে কষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, গাছে রস নেই, গাছে রস সংগ্রহ করে খুব একটা লাভ হয় না। তিনি জানান, শিবগঞ্জের নাককাটি তলা পুরো এলাকা এখন খেজুর ও আখের রস দিয়ে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত শত শত কৃষক। বিশাল জমি জুড়ে এ এলাকায় চোখে পড়বে আখের গাছ। নাককাটিতলার রাস্তায় প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারেই বর্তমানে রস আর গুড়ের কারবার দেদারসে চলছে। দম ফেলার সময় নেই এখানকার কৃষকদের। যা শীতকালে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কিন্তু খেজুর গুড় তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গাছ-গাছালির শুকনা ডালপালার দামও অনেক বেশি। আর তাই রস জ্বাল করে খুব একটা পোষায় না। তারপরও গ্রাম-গঞ্জের বাতাসে খেজুর রস আর গুড়ের গন্ধে এখন মনপ্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসীর।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর