সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

গুণে ভরপুর বেকিং সোডা

লাইফস্টাইল ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০৪:৫২ পিএম

গুণে ভরপুর বেকিং সোডা

ঢাকা : বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে ফেলে রাখা ও কেবলমাত্র কেক, মাফিনের জন্য ব্যবহার করার জন্য বেকিং সোডা কেনা হলেও এর গুনাগুণ কিন্তু অনেক। অত্যন্ত কম দামে পাওয়া বেকিং সোডা যেভাবে অ্যান্টাসিড হিসাবে কাজ করে, এর অ্যান্টিসেপটিক গুণও রয়েছে।

বেকিং সোডা আসলে কি?
বেকিং সোডাতে থাকে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট । এটিতে নাহকোলাইট থাকে যা প্রাকৃতিক খনিজ ন্যাট্রন। ইজিপ্সিয়ানরা প্রাচীন কালে এটিকে সাবান হিসাবে ব্যবহার করতেন যা বর্তমানে রান্নার একটি সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে।

বেকিং সোডার এই ছোট খাটো ব্যবহার ছাড়াও এটি ভীষণভাবে প্রাকৃতিক দুর্গন্ধনাশক পদার্থ, হাত ও দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এছাড়া নিত্যদিন যদি একটু করে বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয় তবে তা শরীরে রক্তের পরিমান ঠিক রাখতে, অ্যাসিড-এর পরিমান হ্রাস করতে উপকার করে থাকে।

স্বাস্থ্যের জন্য বেকিং সোডার উপকারিতাগুলো কী জেনে নিন-

প্রাকৃতিক অম্লনাশক
বেকিং সোডা শরীরে এক নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে। অ্যাসিড নিঃসরণ হলো শরীরের খুব সাধারণ একটি ঘটনা যার ফলে অম্বল এর সমস্যা প্রায়শই দেখা দিয়ে থাকে। বেকিং সোডার মধ্যে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট থাকার জন্য অম্বলের সমস্যা এবং পেটের অন্যান্য সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক অ্যালকালাইসিং এজেন্ট
শরীর থেকে অম্ল এর পরিমান কমাতে এবং পি.এইচ-এর ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে বেকিং সোডা। শরীরে অম্লের পরিমান বেশি হয়ে গেলে অস্টিওপরোসিস,আর্থারাইটিস এর মতো সমস্যা দেখা দেয়।

মূত্রনালির সংক্রমণের উপশম
মূত্রনালির সংক্রমণের উপশম করার অন্যতম একটি ঘরোয়া পদ্ধতি হলো বেকিং সোডা ও জল এর মিশ্রণ।

কিডনি ভালো রাখে
ক্ষারীয় পদার্থ হিসাবে বেকিং সোডা শরীরে অম্লের পরিমান কমাতে এবং পি.এইচ সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ‘মার্কিন সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি’-র মতো একটি পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে এটি শরীরে কিডনির কার্যকলাপ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ঘটায়।

গেঁটে বাত কমায়
ইউরিক অ্যাসিড এর পরিমান মূত্র এবং টিস্যুতে অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে গেলে সারা শরীরে মারাত্মক যন্ত্রনা দেখা দেয় যার ফলস্বরূপ গেঁটে বাত দেখা যায়। এটি ঠিক করতে বেকিং সোডা অসম্ভব উপকার করে।

ত্বকের উন্নতি
মৃত কোষ অপসারিত করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে বেকিং সোডা। এর ফল স্বরূপ ত্বকের পুরানো দ্যুতি ফিরে আসে। এর জন্য কেবল প্রয়োজন জলের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে মুখে বৃত্তাকারের ঘষে লাগানোর। তবে এটি সপ্তাহে ২ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।

ব্রণ প্রতিরোধক
ব্রণ এবং মুখে হওয়া ফুসকুড়ি কমাতে অসাধারণ উপকার করে বেকিং সোডা।

ঠোঁট এর কালোভাব কমায়
মধু এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে প্রতিদিন তিন মিনিট করে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখলে ঠোঁট এর কালোভাব দূর হয়। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত।

দাঁতের জন্য
বেকিং সোডার মতো দাঁত পরিষ্কার অন্য কিছুতেই হয় না। দাঁতের ওপর থেকে দাগ ওঠানোর জন্য বেকিং সোডা এর ভূমিকা অসাধারণ।

চুলের সৌন্দর্য বজায়
বিজ্ঞানসম্মত মতামত না থাকলেও চুলকে নরম করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে বেকিং পাউডার।

সোনালীনিউজ/জেডআরসি/এমটিআই