মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

ঘাট আছে সেবা নেই, যাত্রী আছে পল্টুন নেই

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার ০২:৪৮ পিএম

ঘাট আছে সেবা নেই, যাত্রী আছে পল্টুন নেই

ছবি : সোনালীনিউজ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটায় ৭০ বছরের পুরাতন ব্রিজঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। জোয়ারের পানি নেমে গেলে ভাটার সময় খেয়াঘাট পারাপারে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

এ উপজেলার অর্ধশতাধিক বড় বড় মিল ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাস্ট্রিজ থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মমুখী মানুষ খেয়া পারাপার করেন। এমনকি স্থানীয় মানুষেরাও দিনে কয়েকবার ঘাট পারাপার করে শহরে যায়। কিন্তু ঘাটে পল্টুন না থাকায় ভাটার সময় যাত্রীরা ইঞ্জিনচালিত সাম্পানে উঠতে গেলে চরম বেকাদায় পড়েন।

পানি নিচু স্তরে নেমে গেলে বয়স্ক নারীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় নানা অসুবিধায়। পুরাতন ব্রিজঘাটে মূলত ভাটার সময় সাধারণ যাত্রীরা সাম্পানে ওঠার কোনো উপযোগী পল্টুন নেই। বলতে গেলে কর্ণফুলীতে সিটি কর্পোরেশনের ঘাট আছে সেবা নেই, যাত্রী আছে পল্টুন নেই। বছর বছর ইজারা হয় কিন্তু ইজারার অর্ধেক অংশ অত্র উপজেলা পাওয়ার নিয়ম নীতি থাকলেও তা এখনো কাগজে কলমে নির্ভর রয়েছে বলে সূত্র জানায়।

আমাদের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আরেক কথা রয়েছে ‘না কাঁদিলে নিজের মা ও নাকি দুধ দেয় না’। অথচ পল্টন ব্যবহারের আবশ্যকতা জানিয়ে সাম্পান কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সিটি মেয়র বরাবর কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। তবে ঘাট ইজারার অর্থ চেয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

অপরদিকে ঘাটটি নিয়ে কথা রয়েছে অনেকটা সিন্ডিকেট করে এপারের ঘাটগুলো একটি পক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। প্রতিদিনি চোখে পড়ে পুরাতন ব্রিজঘাটে যাত্রী চলাচলের জায়গায় অঘোষিত একটি মাছ বাজার। এসব মাছ বিক্রেতা রাস্তা দখল করায় নারীরা ঠিক ভাবে চলাচল করতে পারেন না। স্থানীয় প্রশাসন এসব দেখেও দেখছেন না।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে খবর পাওয়া যায়, গত কয়েকদিন আগেও এ ঘাটে জাহানারা ও খাদিজা বেগম নামে দু’জন নারী সাম্পানে উঠতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায় এবং অল্পের জন্য রক্ষা পান। জীবিকার তাগিদে তার পরেও ঝুঁকি নিয়ে ঘাট পারাপার হচ্ছে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু এসব মানুষের কথা চিন্তা করে পুরাতন ব্রিজঘাটে একটি পল্টুন বসানো খুব জরুরি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

সঠিক তত্ত্বাবধান ও দেখাশোনা না থাকায় ১৯৪৯ সালে স্থাপিত হওয়া পুরাতন ব্রিজঘাটের অবস্থা বর্তমানে দৈন্য দশায় পরিণত। উপায়ন্তর না থাকায় তারপরেও নিয়মিত ৪০/৫০টা সাম্পান এ ঘাটে যাতায়াত করছে। অথচ সম্প্রতি খেয়া পারাপারে অপরপ্রান্তে নতুন অভয়মিত্র ঘাট তৈরি করা হয়েছে কিন্তু ব্রিজঘাটে যাত্রীদের উঠানামার জন্য কোনো পল্টুন নেই।

রয়েছে ঝূকিঁপূর্ণ ভাঙ্গা সিঁড়ি যার অবস্থা একবারেই নাজুক। কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরি ছোট্ট যাত্রী ছাউনী থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্ষাকালে যাত্রীরা কাকভেজা ভিজে সাম্পানে উঠতে ও নামতে হয়। থাকে না সাম্পানে নিরাপত্তা লাইফ জ্যাকেটও। যাত্রীদের ন্যূনতম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই বরং মোটকথা দুর্ভোগের আস্তানা। বর্ষার আগেই অনেকে ঘাটের সংস্কার ও পল্টুন বসানোর দাবি তুলেছেন।

ব্যবসায়ীরা শহর থেকে মালামাল নিয়ে আসলেও পল্টুন না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় বলেও এলাকাবাসী জানিয়ে এ পুরাতন ব্রিজঘাটে একটি নতুন পল্টুন, যাত্রী ছাউনী মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

সরকার অনুমোদিত চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতি (রেজি নং চট্ট-১৮৬৫/৯৪ ইং) যাত্রী পারাপারের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান যাত্রী সেবার লক্ষ্যে এগিয়ে আসলেও তারা কতটা সফল সে বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকেই ভালো জানবেন। তবে এ সংগঠনের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘পল্টুন না থাকায় ভাটার সময় ঘাট পারাপারে  মহিলা ও শিশু যাত্রীদের বেকায়দায় পড়তে হয় তা স্বীকার করতে হবে। আমরা কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়টি লিখিত আকারে সিটি মেয়র বরাবরে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি যাত্রী সুবিধার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী বলেন, স্বাধীনতার বহু আগে ১৯৪৯ সালে পুরাতন ফেরিঘাটটি স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রয়াত সিটি মেয়র আলহাজ্ব মহিউদ্দীন চৌধুরীর আমলে যাত্রী ছাউনী ও নয়াহাট সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি এ ঘাটের সংস্কার ও পল্টুন না থাকায় অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক চলাচল করছে। আমরা সংগঠনের লোক অনেকটা আন্তরিক থাকলেও বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় তেমন কিছু করতে পারছি না। তবে এ ঘাটে একটি জরুরিভাবে পল্টুন তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। যাতে বয়স্ক রোগী ও নারীসহ স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সহজে সাম্পান উঠতে পারে। সে বিষয়ে আমরাও যোগাযোগ করতেছি সিটি কর্পোরেশন অফিসের সঙ্গে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য যুব লীগ নেতা মো. ফরিদ জুয়েল বলেন, ‘ঘাটে রাতের বেলায় আরো লাইটিং-এর ব্যবস্থাসহ মহিলা ও শিশু যাত্রীদের ঘাট পারাপার সহজ করতে পল্টুন তৈরি করা দরকার রয়েছে। আমরা বিষয়টি স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মাননীয় মেয়র সাহেবের সুনজর প্রত্যাশা করছি।’

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর