শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

‘চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে হলে আগে প্রযোজককে বাঁচাতে হবে’ 

বিনোদন প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১১:৪৮ এএম

‘চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে হলে আগে প্রযোজককে বাঁচাতে হবে’ 

শাকিব খান

ঢাকা: ‘নতুন করে সিনেমা হল বন্ধের কথা বলে তো লাভ নেই। দেশে এখন নামে মাত্র সিনেমা হল আছে। পর্যাপ্ত ছবি নেই, বিদেশি ছবি আমদানিতে নানা জটিলতা সবই ঠিক। অন্যদিকে একজন প্রযোজক সিনেমা হল থেকে যথাযথ শেয়ার মানি পান না। সিনেমা হলের মেশিন ভাড়া থেকে শুরু করে থার্ড পার্টি মানে ব্রোকারদের টাকাসহ সব খরচ প্রযোজককে বহন করতে হয়। ছবি সুপার হিট হলেও প্রদর্শকের কাছ থেকে প্রযোজক যথার্থ অর্থ পান না। একজন প্রযোজক যদি মুনাফা দূরে থাক লগ্নিকৃত অর্থই ফেরত না পান তাহলে তিনি নির্মাণে আসবেন কেন? চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে হলে আগে প্রযোজককে বাঁচাতে হবে। এমনটাই জানিয়েছেন সুপারস্টার শাকিব খান। শাকিব কান বলেন এর জন্য প্রয়োজনে প্রদর্শক, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলীদের একসঙ্গে বসে সময়োপযোগী একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

সারা দেশে বর্তমানে সিনেমা হল আছে মাত্র ১৭৪টি। এগুলো চালানোর মতো অবস্থা না থাকায় অচিরেই ঘোষণা দিয়ে সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রদর্শকদের এমন সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্রকারদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতে এমন মন্তব্য করেন সময়ের সেরা নায়ক শাকিব খান। সিনেমা হল বন্ধ

আলোচিত খল অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘ ‘প্রদর্শক-প্রযোজক উভয়ের স্বার্থ একসঙ্গে রক্ষা করা দরকার। প্রদর্শকরা ছবি না পেলে লোকসান গুণে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে যাবে কেন? সিনেমা হল তো কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। অন্যদিকে ছবি নির্মাণ করে প্রযোজক যদি মূলধনই সিনেমা হল থেকে তুলে আনতে না পারেন তাহলে তিনি ছবি নির্মাণ করবেন কেন? প্রযোজক হচ্ছেন নির্মাণ সহযোগী আর প্রদর্শক হলেন প্রচারমাধ্যম। একে অপরের পরিপূরক। তাই উভয়েরই স্বার্থ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আগে এফডিসি থেকে পর্যাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। আমি মনে করি, সম্মিলিতভাবে সবাই বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের পথ বের করা দরকার। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বিদেশি ছবি আমদানি করা যেতে পারে।’

একই বিষয়ে জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস, ‘ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ অব্যাহত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এটি সত্যিই দুঃখজনক। একদিকে পর্যাপ্ত ছবি নেই, অন্যদিকে লোকসানের কবলে পড়ে সিনেমা হল এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিচ্ছিন্নভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকার তখনই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে যখন চলচ্চিত্রের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ দেখবে। বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে আন্তরিক এ কথা বার বার প্রমাণ হয়েছে।’

সিনেমা হল বন্ধ নিয়ে প্রযেজক খসরু বলেন, ‘সিনেমা হল বন্ধ করে দিলে বিপর্যয় বাড়বে। তবে এ কথা ঠিক যে, পর্যাপ্ত ভালো ছবি না পেলে তারা কতদিন লোকসান দিয়ে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে পারবে। আমরা তো যথেষ্ট পরিমাণে কন্টেন্ট দিতে পারছি না। চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা যদি সহজ করে দেওয়া হয়, যাতে এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ না হয় এবং দুই দেশের ছবি একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া যায়, তাহলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।’

এই নিয়ে পরিচালক সমিতিরি সাধারন মহাসচিব  ও খ্যাতিমান পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘ বার বার সিনেমা হল বন্ধের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। প্রদর্শকরা নতুন শিল্পীর ছবি চালাতে চান না। একজন শাকিব খান দিয়ে তো সারা বছরের ছবি নির্মাণ সম্ভব নয়। প্রযোজককে তারা ১০০ টাকার টিকিটে দেন মাত্র ১০ টাকা। এভাবে ঠকিয়ে ব্যবসা করতে গেলে লোকসান গুণে কোনো নির্মাতা নির্মাণে আসতে চাইবেন না।

সোনালীনিউজ/বিএইচ