বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা, প্রচারণার অভাবে জানে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:৩৬ পিএম

চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা, প্রচারণার অভাবে জানে না কেউ

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা : বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করে। এ বছরও নভেম্বরের ১২ তারিখ থেকে মেলা বসিয়েছে তারা। মেলা এখন শেষ পর্যায়ে, তবুও গড়ে লোকসান আছে প্রায় প্রতিটি স্টলের ব্যবসায়ীরা।  এছাড়া প্রথম থেকেই মেলা ত্রেুতাশূন্য।  

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদাসীনতা ও প্রচারের অভাবে এ মহতী আয়োজন কিছুতেই জমে উঠছে না বলে অভিযোগ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচার-প্রচারণাবিহীনভাবে যদি মেলা চলতে থাকে তাহলে এমন মেলা ত্রেুতাশূন্যই থাকবে এছাড়াও দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোর প্রচারণা নেই, নেই কোন মিডিয়া কাভারেজ। এ কারণে আগামীতে এই মেলায় ইসলামী বই প্রকাশ ও লিখকদের একটি অংশ মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

মেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ড. হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, বর্তমানে ইসলামিক চিন্তাধারার বই কেনা ও পড়ার মতো পাঠকের অভাবে মেলায় ত্রেুতাদের উপস্থিতি কম।  এছাড়া মেলার প্রচার-প্রচারণার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কোনো বাজেট নেই।  ব্যবসায়ীদের লোকসানের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, যদি তাদের লোকসানই হবে তাহলে তারা আবার নতুন করে ১ মাস মেলা বাড়ানোর কথা বলেছে কেন? তবে এই বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লোকসান তুলতেই তারা আবার নতুন সময় বাড়াতে আবেদন করেছে।  

জানা যায়, মেলার আগে ও শুরু থেকে কোনো প্রচার-প্রচারণার কাজ করেনি ফাউন্ডেশন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রত্যেকটি মেলার আগেই বিভিন্নভাবে প্রচারণার কাজ করে কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েকবার ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজে আসেনি।  

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) কয়েকটি স্টলের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রতি বছরই মেলার শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইসলামিক চিন্তাধারার পত্রিকার মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করার বিষয়ে ফাউন্ডেশনে অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, এ বছর মেলায় ৫৫টি স্টল আছে, সেই হিসাবে প্রতিটি স্টলে একটি করেও ত্রেুতা দেখা যায়নি।  সব মিলিয়ে ওই সময় দশজনের মতো ত্রেুতাও ছিল না পুরো মেলা প্রাঙ্গণে। এছাড়া এর আগে আরো দুইদিন সরেজমিনে গেলে দেখা যায় একই চিত্র। 

জানা গেছে, স্টলগুলোর আকার অনুসারে প্রতিটি মাঝারি সাইজের স্টল ৭ হাজার, মিডিয়াম ১৪ হাজার ও বড় স্টলগুলোকে ২১ হাজার করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দিতে হয়।  এছাড়া প্রতিটি স্টলেই ২ থেকে ৪ জন করে কর্মচারী-কর্মকর্তা আছে। তাদের মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হয়।  এই হিসাবে মেলায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করে মালিকপক্ষ।  কিন্তু এ বিনিয়োগে লাভ তো হয়ই না, বরং উল্টো লোকসানের পাল্লা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। 

মেলার স্টলে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সহ অন্যান্য নবী-রাসুলদের জীবনীর বই রয়েছে। আল-কুরআন, হাদিস শরিফ, ইসলামের ইতিহাস, মহানবীর দৈনন্দিন জীবন, পছন্দ-অপছন্দ, জান্নাত-জাহান্নাম নিয়ে বইও পাওয়া যাচ্ছে। মেলার ১ থেকে ৫ নম্বর স্টলটি হচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের।  মেলার আয়োজক এই প্রতিষ্ঠানটির স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ‘ইসলামের প্রচার ও প্রসারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ‘শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম’, হজ-উমরাহ জিয়ারত ছাড়াও অনেক বই।  বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী সেরা বিক্রির তালিকায় রয়েছে হাদিস শরিফ, নসিম হিজাগির ‘মরণজয়ী’, এম এন হাবিব উল্লাহ’র ‘রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস’।  বই ছাড়াও মেলার বিভিন্ন স্টলে টুপি, জায়নামাজ, আতর, মেসওয়াক ও তজবি বিক্রি করা হচ্ছে।  

মেলায় আগত আবু ইসমাঈল দানিয়েল নামে এক ক্রেতা বলেন, বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে এসে দেখলাম এখানে ইসলামি বইমেলা চলছে।  যদি এখানে নামাজে না আসতাম, তাহলে জানতেই পারতাম না এখানে সুন্দর একটি মেলা বসেছে। এই ধরনের আয়োজন মুসলমানদের জানানো ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব বলেও তিনি মনে করেন।

এমদাদিয়া স্টলের স্বত্বাধিকারী মো আবুল কাশেম পাটোয়ারী বলেন, মেলায় ত্রেুতা নেই বলেই চলে, সারাদিনে বেচা-বিক্রিও কম।  এ কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।  বই মেলায় যেভাবে প্রচার করা হয় এখানে সেই রকম কোনো প্রচারণা নেই। আপনাকে দেখে ভালো লাগছে যে একজন সাংবাদিক এসেছেন।  ইসলামি বই মেলার প্রচারের মাধ্যমে যদি মানুষ জানতে পারে তাহলে মেলার সৌন্দর্য আরো বড়তো বলে দাবি করেন তিনি। 

দারুস সালাম স্টলের মার্কেটিং ম্যানেজার খন্দকার মোতাহার হোসেন বেলাল বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হবে।  গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই স্টলে মাত্র ১৮০০ টাকার মতো বই বিত্রিু  হয়েছে বলেও তিনি জানান।  

এদিকে মেলায় ঘুরতে আসা আহমদ ছফার নামে একজন ক্রেতা বলেন, এখানে ঘুরতে এসে দেখে ইসলামি বইয়ের বিশাল সম্ভার।  ভেতরে না এলে কিছুই বুঝতাম না।  আসলে প্রচারেই প্রসার। ইসলামি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এতো বড় ইসলামি বই মেলা দেশের কোথাও হয় কি-না আমার জানা নেই।  ভালো লাগলো ইসলাম চর্চায় এখনও মানুষ বই পড়ে দেখে।  

মেলা আগত সালাউদ্দিন নামে একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামি ফাউন্ডেশন প্রতি বছরই মেলার আয়োজন করে। কিন্তু বাহিরে থেকে এটা দেখে বুঝা যায় না এখানে ভেতরে কোনো মেলা হচ্ছে।  তারা (ইসলামি ফাউন্ডেশনকে)  মেলার আয়োজন করেই দায়িত্ব শেষ করে। দ্বীন প্রচারের জন্য এই ধরনের মেলার খুব বেশি দরকার।  

এদিকে ইসলামি ফাউন্ডেশনের মেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ড. হারুন-অর-রশীদ জানিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সাথে বসে প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue