বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

চলতি মাসেই রাজপথে নামতে চায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:২৩ পিএম

চলতি মাসেই রাজপথে নামতে চায় বিএনপি

ঢাকা : চলতি মাস থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। প্রস্তুতি চলছে সেভাবেই। সময়ের পরিবর্তন এবং অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েই সফলতা পেতে চায় দলটি।

আন্দোলনে যাতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুসহ দলীয় কিছু ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনের সূচনা করা হবে আগামী ২০ জুলাই চট্টগ্রামের বিভাগীয় মহাসমাবেশের মাধ্যমে।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুর আন্দোলনে রাজপথ উত্তপ্ত করা সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করে গণ-অভ্যুত্থান ঘটানোই বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আর আন্দোলনের ধরনে পরিবর্তন আনার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিনিয়র ওই নেতার মতে, একসময় সরকারকে চাপে ফেলার আন্দোলন হিসেবে শুধু হরতাল-অবেরোধকেই ভাবা হতো। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই হরতালের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েক নেতার বাধায় তা বাস্তবায়ন করেনি সরকারবিরোধী জোটটি।

বিএনপির ওই নেতার মতে, সময় পরিবর্তন হয়েছে। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায় দেশের মানুষ। তবে সাধারণ মানুষ আর ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি চায় না। পরিকল্পিত কোনো কর্মসূচি ও কার্যকরী দিকনির্দেশনা না থাকায় নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে আন্দোলন সফল হচ্ছে না। তাই জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এসব কর্মসূচি থেকেই জনসম্পৃক্ত আন্দোলন গড়ে তুলবে বিএনপি।

গত ২২ জুন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির স্থায়ী কমিটি। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই বন্দরনগরীতে বিভাগীয় মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। ১২ জুলাই জেলা ও বিভাগীয় নেতাদের সভা রয়েছে। সমাবেশ করতে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এখনো অনুমতি না মিললেও পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

এই কর্মসূচি থেকে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হবে মন্তব্য করে শামীম বলেন, এই সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করবে তারা সরকারকে চায় না। খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। প্রতিটি ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে থাকতে চায়। বিএনপিও খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি জনগণের অধিকারের জন্য ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ইস্যুতে মাঠে থাকার ঘোষণা দেবে মহাসমাবেশ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির দুর্বল কর্মসূচি দলের অনেক নেতাকর্মীই ভালোভাবে নেয়নি। মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা সিনিয়র নেতাদের সরাসরি বলেছে এই ইস্যুতে বিএনপির কঠোর কর্মসূচি দেওয়া উচিত ছিল। বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হতো। জবাবে সিনিয়র নেতারা তাদের জানিয়েছেন এ ব্যাপারে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন দলের হাইকমান্ডও।

কিন্তু আন্দোলনের জন্য সংগঠন গুছিয়ে আনার একেবারে শেষ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না বিবেচনায় দুর্বল কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ ইস্যুতে বড় কর্মসূচি দেওয়ার কথা এখনো ভাবা হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন বিএনপির মধ্যম সারির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, আসন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তিকে প্রধান দাবি এবং জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই আন্দোলন শুরু হবে। এর মধ্যে নিরাপদ সড়ক, গুম-খুন-ধর্ষণ নির্মূলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, নগরীতে যানজট, জলজট, বিষয়গুলো আসবে।

এই নেতা আরো বলেন, ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, উপজাতিসহ প্রতিদিনই বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। লোকবল কম থাকার কারণেও অনেক বড় সমস্যার মাঝে ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়ে ছোট পরিসরে আন্দোলন হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টিতে আসে না। সেসব আন্দোলনকারীর সঙ্গেও একাত্ম হতে চায় বিএনপি। সর্বস্তরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে সব দাবি আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার প্রস্তাব দিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বিএনপি সূত্রমতে, এবার আন্দোলন সফল করতে বিএনপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠনও চলছে। সারা দেশে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন সম্পর্কে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলন ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন হবে না। তবে যে আন্দোলনের ফল পাওয়া যাবে না, সে রকম কর্মসূচিতে বিএনপি যেতে চায় না। আন্দোলনে সফল হতে হলে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য মানুষকে রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের একতরফা জাতীয় নির্বাচনের পর দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন থেকে রাজপথের আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলের প্রধান খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পরও কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যায়নি তারা। এমনকি গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর অনিয়মের অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত নীরব আছে বিএনপি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই