রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

চাপের মুখে দেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০৪:০০ পিএম

চাপের মুখে দেশের অর্থনীতি

ঢাকা : বাংলাদেশের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এ অভিমত তুলে ধরনের সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্থনীতির একটি শক্তি ছিল। সেই শক্তিতে চিড় ধরেছে, দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এর অনুসঙ্গ কর আহরণে অপারগতা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা যদি অতিক্রম না করা যায়, তাহলে আমাদের উন্নয়নের যে অভিলাস রয়েছে তার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সুযোগ কম হবে এবং অন্য উৎস থেকে যদি আমরা বিনিয়োগ করার চেষ্টা করি তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বল পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এ সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন চিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ বছর অর্ধেক এডিপি বাস্তবায়ন হচ্ছে মাত্র তিন মাসে। এটা যে কী এডিপি হবে সেটা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ পরিস্থিতিকে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ার আর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ ভালো, রফতানিও ভালো, তারপরও বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আছে মাত্র ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৮ মাসের সমান।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘সরকার যেটা করছে- ডলার বিক্রি করে টাকাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। টাকাকে আর স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে চালু রাখতে হলে টাকাকে এখন নিচে নামিয়ে নিয়ে আনতে হবে। এটা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকার যেটা মনে করছে টাকা সস্তা করলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর একটা প্রভাব পড়বে। আমরা মনেকরি মূল্যস্ফীতি এখন যে অবস্থানে আছে, তাতে এ হার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। সে কারণে টাকাকে কিছুটা অবমূল্যায়ন করলে তা সহ্য করার শক্তি অর্থনীতির আছে। কিন্তু অন্য সময় মূল্যস্ফীতি যদি বেড়ে যায়, তাহলে এটা করা জটিল হয়ে পড়বে। সুতরাং টাকার মান পুনঃনির্ধারণ অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

ব্যাংক খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। গত তিন-চার বছর ধরে এ বিষয়ে বলতে বলতে এমন একটা অবস্থায় এসেছি অবশেষে ব্যাংক খাতের সংকট সবাই উপলব্ধি করছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে আমরা তার প্রতিফলন দেখি না। বর্তমান সরকার আসার পর যে কয়টা পদক্ষেপ নিয়েছে, সবগুলো ব্যাংক খাতের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়েছে।

এ সময় কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষককে ৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি কৃষকদের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। শিল্প ও কৃষির মধ্যে যে বাণিজ্য স্বত্ব থাকে, তা কৃষকের বিপরীতে গেছে। এটা যদি অব্যাহত থাকে আগামীতে বাংলাদেশে কৃষকদের টিকে থাকা খুবই কঠিন হবে। তাই কৃষকের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

আমরা সিপিডির পক্ষে খুব পরিষ্কার ভাবে বলেছি কৃষকরা অবশ্যই সরকারের কাছে আর্থিক ভর্তুকি দাবি করতে পারেন। কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষককে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা করে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। এতে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো লাগবে।

এ সময় ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া উচিত হবে না’- এমন অভিমত তুলে ধরে তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলে তা আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ব্যত্যয় ঘটবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে- ঘুষ, অনুপার্জিত আয়, কালো টাকা, পেশি শক্তি মাধ্যমে উপার্জন করা, সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।

ব্রিফিংয়ে সিপিডির পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

১. রাজস্ব আহরণের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা।

২. সরকারি ব্যয় সুশৃঙ্খলভাবে করা, যাতে অবচয় না হয়।

৩. কর ছাড়ের হিসাব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৪. সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সমন্বয় করা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

৫. প্রত্যেক কৃষককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

৬. ব্যাংক কমিশন গঠন ও সুদের হার বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর ছেড়ে দিতে হবে।

৭. পুঁজিবাজারের সংস্কারের ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।

৮. সরকারি প্রতিষ্ঠান অডিট করে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

৯. সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং

১০. টাকার অবমূল্যায়ন করতে হবে।

সিপিডির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চলনায় এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue