বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে খুশি বঞ্চিতরা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ মে ২০১৯, শুক্রবার ১১:২৭ পিএম

ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে খুশি বঞ্চিতরা

ঢাকা : সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে খুশি সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিতরা। ছাত্রলীগের অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটিতে যোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ছাত্রনেতাদের ঠাঁই হবে বলে তারা আশাবাদী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া এ সংগঠনের কমিটির পুনর্গঠনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারো আশ্বাস মেনে না নেওয়ার কথা শুরু থেকেই নানাভাবে বলে আসছিলেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে তারা স্বাগত জানিয়ে বলেন, ত্যাগী ও সংগঠনের আদর্শের প্রকৃত অনুসারীদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ হবে। কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তারা।

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের নামে শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করা হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন পদবঞ্চিতরা। পুনর্গঠন হওয়ার পর বিতর্কিত ও সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কাউকে কোনোভাবে কমিটিতে রাখা হলে এর বিরুদ্ধে শক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন বলেও তারা জানান। ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে ১৭ জনের নাম প্রকাশিত হলেও পদবঞ্চিতদের দাবি— এ সংখ্যা আরো বেশি।

গত সোমবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, রাজাকার পরিবার, বিএনপি পরিবারের সদস্য, জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবির, বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এত দিন অন্তত অর্ধশত বিতর্কিত নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ৩০১ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির কমপক্ষে ১০০ জন কোনো না কোনোভাবে ‘বিতর্কিত’। পদবঞ্চিতদের দাবি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনই ‘বিতর্কিত’।

কী কারণে তারা ‘বিতর্কিত’ এর ব্যাখ্যাও দেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র নির্ধারিত বয়সোত্তীর্ণ, মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত, অপকর্মের দায়ে সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত, সাজাপ্রাপ্তরা ও বিবাহিতরাও কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশানুরূপ পদ না পাওয়া ও পদবঞ্চিতরা বিতর্কিত ১০০ জনের নামের তালিকাও প্রকাশ করেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গত বুধবার গণভবনে ডেকে কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের নিয়ে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন শেষে রাতেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। কমিটি থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার বেলায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও আদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে এ সময় সিদ্ধান্ত হয়। সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতাকেও প্রধানমন্ত্রী একই নির্দেশ দেন বলে জানায় ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্র। পদপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি পদপ্রাপ্ত সবার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজ নিতে গোয়েন্দা সংস্থাকেও নির্দেশ দেন বলে জানায় গণভবনের একটি সূত্র জানায়।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এ প্রসঙ্গে গতকাল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাওয়া বিতর্কিত নেতারা বাদ পড়বেন। কয়েকজনের বিষয়ে কিছু অভিযোগ আসছে। যাদের ব্যাপারে অভিযোগ আসছে, তাদের নামে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কমিটিতে শূন্যস্থান পূরণ করতে নতুনদের স্থান দেওয়া হবে।’

কমিটি পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সংগঠনের কাউকে দোষারোপ করছি না। আমরা দোষারোপ করছি কিছু ব্যক্তিকে। তাদের কারণে সংগঠনের বদনাম হোক, আমরা তা চাই না। আমরা শুধু বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের যে দাবি আমরা জানিয়েছিলাম, তা যৌক্তিক ছিল বলেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৭ জন বিতর্কিতের তালিকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের চাওয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী যেন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।’

অন্যদিকে গত বুধবার রাত ১২টায় ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে শুরুতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জানান, ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটির ১৭ জনের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন— তানজীল ভুঁইয়া তানভীর, আরেফিন সিদ্দিকি সুজন, সুরঞ্জন ঘোষ, আতিকুর রহমান খান, বরকত হোসেন হাওলাদার, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, মাহমুদুল হাসান তুষার, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আহসান হাবীব, সাদিক খান, তৌফিক হাসান সাগর, সোহানী হাসান তিথি, রশি চৌধুরী, মুনমুন চৌধুরী, আফরিন লাবণী ও মুনমুন নাহার বৈশাখী।

চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ না করতে পারলে তাদের পদগুলো শূন্য ঘোষণা করে সেখানে যোগ্যদের স্থান দেওয়া হবে বলে জানান ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি বলেন, ‘অছাত্র, বিবাহিত, মাদকসেবী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নন, এমন কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ সত্য হলে তাদের পদ শূন্য করে যোগ্যদের স্থান দেওয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসে‌ছে তা‌দের যেমন ব‌হিষ্কার করা হ‌বে, যারা বিশৃঙ্খলা করেছেন, তাদের‌ও ব‌হিষ্কার করা হ‌বে।’

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এমন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপ্রত্যাশিত আচরণের মাধ্যমে যারা ছাত্রলীগকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই