মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র, আহত ২০

ইবি প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার ০৮:০৩ পিএম

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র, আহত ২০

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্য ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপ। ফলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব নেতাকর্মীদের নিয়ে থানা গেইট এলাকা থেকে প্রধান ফটক এলাকায় আসে। এসময় তারা স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে তাদের ধাওয়া করে পদবঞ্চিত গ্রুপ। 

একপর্যায়ে প্রধান ফটক সংলগ্ন ‘সপ্তডিঙ্গা বিপণী’র সামনে উভয় গ্রুপ মুখোমুখি হয়। এতে সভাপতি-সম্পাদকের কর্মীদের উপর চড়াও হন বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা। এসময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের কাছে হকিস্টিক, রড, বাঁশ, কাঠের চলাসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দেখা যায়। একই সময় অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের ফলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় প্রধান ফটক এলাকা।

এদিয়ে এই ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামসহ ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে সুমন, বিপুল, শামস, আমিন, রাফিদ, শুভ, কল্লোল, হানিফ, সোহানসহ প্রায় বিশজন আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই ঘটনায় কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহনকারী দুপুর দুইটার গাড়ি আটকে দেয় বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরে বিকাল তিনটার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে দেয় এবং বিকাল চারটার দিকে ক্যাম্পাস গেইট খুলে দেয়।

এদিকে, সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর পেয়ে শিশির ইসলাম বাবু, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, মিজানুর রহমান লালন, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের নেতৃতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা দলীয় টেন্টে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে সকাল সোয়া ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তারা। এসসয় তাদের সভাপতি-সম্পাদক বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে ফটক এলাকায় গিয়ে সভাপতি সম্পাদক গ্রুপের কয়েকজন কর্মীকে পেয়ে তাদের মারধর করে।

মামলা: সংঘর্ষের ঘটনায় ইবি থানায় মামলা দায়ের করেছে বিদ্রোহী গ্রুপ। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হানিফ হোসাইন বাদী হয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আনিছুর রহমান বলেন, আজকের অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিষয়টি আমরা অবহিত ছিলাম। যার ফলে ক্যাম্পাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো। তারপরও একটি ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, নতুন কমিটি গঠনের প্রায় দুই মাস পর থেকেই অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু অভিযোগে ইবি ক্যাম্পাসে সভাপতি-সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত গ্রুপ। ফলে প্রায় তিনমাস ধরে ক্যাম্পাসে কোনরকম কর্মকান্ড পালন করতে পারেনি তারা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue