বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

৬৪ জেলায় পাঠানো হয়েছে পুলিশ সতর্কবার্তা

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ মে ২০১৯, শুক্রবার ১০:১৮ পিএম

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা!

ঢাকা : যে কোনো সময় দেশের যে কোনো স্থানে জঙ্গি হামলা হতে পারে। তাই জঙ্গিঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস বার বার বাংলাদেশে হামলার হুমকি দেওয়ায় এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় সবসময় সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সতর্কাবস্থানের পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবের জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে লক্ষ্যে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নতুন করে কর্মপরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ বাহিনী। একই সঙ্গে নব্য জেএমবির হাল ধরার নায়ক আইএসের প্রতিনিধি আবু মোহাম্মদ আল বাঙ্গালীকে চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশকে কেন জঙ্গিরা বার বার টার্গেট করছে- এ প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, উগ্র জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে এরকম মানসিকতার লোক বাংলাদেশে রয়েছে। এটা তারা জানে। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সহজে হামলা করা যাবে বলে আইএস মনে করে। তাই একের পর এক তারা হুমকি দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বার বার তাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছে। হলি আর্টিজানে হামলার পর গত আড়াই বছরে বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়েছে জঙ্গিরা। এতে তারা কোণঠাসা হয়ে আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। যে কারণে তারা হামলার হুমকি এবং সুযোগ খোঁজা অব্যাহত রেখেছে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, বাংলাদেশে জঙ্গিরা এখন কোনো শক্ত অবস্থানে নেই। দৃশ্যমান বড় কোনো হামলা চালাতে যে ধরনের লোকবল বা লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার, সেসব এখন তাদের কাছে নেই। তবে যে কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটা হচ্ছে, যারা জঙ্গিবাদে জড়ায়, তারা আর সাধারণ মানুষের মতো থাকে না। এরা পরিবার-পরিজন, সমাজ সংসার থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়। এরা বিশ্বাস করে সবাই ভুলপথে পরিচালিত হচ্ছে।

আল্লাহর পথে চলতে হবে আর আল্লাহর পথ হচ্ছে যারা প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী তাদের সঙ্গে জেহাদ করা, যুদ্ধ করা এবং তাদের হত্যা করা। আর এই পথে গিয়ে নিজে হত্যার শিকার হলে সরাসরি বেহেশত। তথাকথিত বিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই তারা মাঠে নামে। সুতরাং এরা আত্মঘাতী হতে পারে। আর আত্মঘাতী ‘লোন উলফ’ একা অনেক বিধ্বংসী বোমা বহন করে বড় আক্রমণ চালাতে পারে। এ আশঙ্কাতেই সতর্কতা।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হয়। হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২৮ জন নিহত হয়। ওই হামলার পর আইএস হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর দুই সপ্তাহের মাথায় আইএস ভিডিও ফুটেজে পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার হুমকি দেয়। নিজেদের অনলাইন পোর্টালে তারা বাংলাদেশে হামলা করা হবে বলে জানায়। কিন্তু গত আড়াই বছরে তারা বার বার চেষ্টা করেও পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক অভিযানে তাদের সব মিশন ভেস্তে গেছে। এতে আইএস আরো চটেছে।

গত ২২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলায় ২৯৮ জন নিহত হয়। এরপর চলতি মে মাসে গুলিস্তানে সন্ত্রাসীদের ছোড়া ককটেল বোমার আঘাতে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ দুটি ঘটনার দায় আইএস স্বীকার করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের জঙ্গিরা পহেলা বৈশাখে, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে, বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় এবং কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এসব হুমকিকে একেবারে পাত্তা যে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কিন্তু নয়। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বছরের পর বছর জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করে। তারা এটা বুঝতে পারে যে জঙ্গিরা দলবলে না হলেও একাও বড় আঘাত করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং এসব মাথায় রেখেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

১৮ মে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের সব জেলায় ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তল্লাশি তৎপরতা যেন অব্যাহত রাখা হয়। নতুন কোনো বাড়ি ভাড়া দিলে যাতে ভোটার আইডি দেখার পাশাপাশি পুলিশকে জানানো হয়, সেসব বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে নিয়মিত।

সোনালীনিউজ/এমটিআই