রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

জনশূন্য সম্রাটের দরবার

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার ০৪:৩০ পিএম

জনশূন্য সম্রাটের দরবার

ঢাকা : সব সময় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে চলাফেরা করতেন তিনি। তার কার্যালয়ে থাকত হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়। সেই কার্যালয় এখন শূন্য খাঁখাঁ করছে। এ যেন মন্ত্রী-প্রজাশূন্য এক সম্রাটের দরবার। এত সময় বলছিলাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের রাজধানী কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনের কথা। সম্রাটকে আটকের গুঞ্জনের পর থেকেই প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে ওই ম্যানশন। এটি যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাটের কার্যালয় নামে পরিচিত।

ঢাকায় অবৈধ জুয়া আর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান শুরুর পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সম্রাট হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ওই কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেই রাত থেকে নেতাকর্মীরা পাহারা দিয়ে রাখেন তাদের সম্রাটকে।

কিন্তু কয়েকদিন পর জানা যায়, সম্রাট তার কার্যালয়ে নেই। তবু শত শত নেতাকর্মী ওই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয়কে ঘিরে কৌতূহল কমে আসে নেতাকর্মীদের। কমে যায় পদচারণা। গত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যের পর প্রায় জনশূন্য হয়ে গেছে এ কার্যালয়! এক সময়ের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড়, জৌলুস ও ক্ষমতার দাপট এখন অনেকটাই মলিন।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনের ফটকের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে আগের মতো নেতাকর্মীদের ভিড় নেই। অনেকটা সুনসান নীরবতা। দু-একজন কর্মী এলেও কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। এসে উঁকি দিয়ে আবার চলে যাচ্ছেন। শুধু গেটে তালা লাগিয়ে দুজন দারোয়ান বসে আছেন।

তারা জানান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কয়েকদিন আগে এসেছিলেন। তার মা অসুস্থ। এ জন্য মাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে কোন হাসপাতালে আছেন, তা জিজ্ঞেস করলেও হাসপাতালের নাম বলতে পারেননি দুই দারোয়ান।

এদিকে ভূঁইয়া ম্যানশনের কার্যালয় ছাড়ার পর থেকে যুবলীগ নেতা সম্রাটকে নিয়ে নানা গুজবের ডালপালাও ছড়াচ্ছে। কেউ বলেন, তিনি আটক হয়েছেন। কেউ বলেন, তিনি নীরবে দেশ ছেড়েছেন। আবার কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে অজানা আশঙ্কার কথাও বলেছেন।

সম্রাটের কার্যালয়ের সামনে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের এক কর্মী জানান, ‘সম্রাট শেখ হাসিনার পরীক্ষিত কর্মী। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি শিগগিরই কার্যালয়ে ফিরে আসবেন।’

তবে সম্রাটের কী হয়েছে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ওই কর্মী কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদিন আগে সম্রাট ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপর আর যোগাযোগ করতে পারিনি।

অন্যদিকে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ব্যাপারে অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, আমার মনে হয় এ ব্যাপারে বলার অথরিটি তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটার ওপর বিশ্বাস রাখুন, প্লিজ, ওয়েট অ্যান্ড সি। শিগগিরই জানতে পারবেন।

এর আগে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধী যত ক্ষমতাশালীই হোক, রেহাই পাবে না। গা-ঢাকা দিয়েও কেউ আত্মরক্ষা করতে পারবে না। আইনের আওতায় তাকে আসতেই হবে। ওই দিনই সম্রাট ও তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার ঘোষণা দেয় সরকার।

সোনালীনিউজ/এমটিআই