শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

জমে আছে ৬ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার ০৯:১৯ পিএম

জমে আছে ৬ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স

ঢাকা : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ ও পরীক্ষায় পাস করে অপেক্ষায় রয়েছে সাড়ে ছয় লাখ সেবাগ্রহীতা। কিন্তু হঠাৎ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে মোটরযান চালকদের।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেন্ডিং ছিল সোয়া এক লাখ। লাইসেন্স তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার বিডি’ কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর নতুন করে টেন্ডার ছাড়া হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি ও সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে পৌনে তিন মাসে জমতে জমতে সাড়ে ছয় লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স ঝুলে আছে বিআরটিএ কার্যালয়ে।

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স না পেলেও যে কেউ চাইলে অস্থায়ী ভিত্তিতে একটা অনুমোদনপত্র দেওয়া হচ্ছে। যেটা কাছে থাকলে সব জায়গায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে। মামলাও করতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২০১৬ সালের ২৩ জুন বিআরটিএর সঙ্গে টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের ড্রাইভিং লাইসেন্স (স্মার্টকার্ড) সরবরাহের চুক্তি হয়। প্রতি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাবদ খরচ নির্ধারিত হয় ৪৭২ টাকা ৬০ পয়সা।

চুক্তি অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড আমদানি, পার্সোনালাইজেশন সেন্টার, প্রিন্টিং স্টেশন, নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি, অনলাইন ইউপিএস, ডেটা সেন্টার, সার্ভার, স্টোরেজ মেইনটেইন, ট্রেনিং, ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সাপোর্ট, লাইসেন্সপ্রাপ্তির জন্য গ্রাহককে এসএমএস প্রেরণসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও ডেটা কালেকশনের জন্য সারা দেশে জনবল নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তিতে শর্ত ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের মধ্যে অর্থাৎ পাঁচ বছরে গড়ে তিন লাখ করে ১৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স (স্মার্টকার্ড) সরবরাহ করবে। এরপর পুরো সিস্টেম বিআরটিএর কাছে হস্তান্তর করবে। কিন্তু নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের পর ও রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। সোয়া ১৫ লাখের চাহিদার মধ্যে তিন বছরে ১৪ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ করে টাইগার আইটি। বাকি সোয়া এক লাখ লাইসেন্স প্রিন্টের সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষপর্যায়ে থাকতেই চুক্তি থেকে সরে আসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

তারপরও টাইগার আইটি বিআরটিএর কাছে আরো ৫০ শতাংশ চুক্তির অতিরিক্ত কার্ড সরবরাহের অনুমতি চায়। এর বিপরীতে ৩০ শতাংশ হিসাবে আরো সাড়ে চার লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের অনুমোদনের জন্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠায় বিআরটিএ।

বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এ কে এম মাসুদুর রহমান সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিআরটিএর একটা সংকট যাচ্ছে। টাইগার আইটির সঙ্গে কাজের মেয়াদ শেষ। নতুন কোম্পানির সঙ্গে কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে গেল সপ্তাহে। সেটা পার্চেস কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটা পাস হয়ে গেলে লাইসেন্স প্রদানের সংকট আর থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, অস্থায়ীভাবে একটা অনুমোদনপত্র আমরা দিচ্ছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ওই অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue